অমিত জানা , হাওড়া:
কান খুলে শুনে নে নইলে মুলে দেব ,
দেশটা সবার, নইলে জাতের
চশমা খুলে নেব...
হিন্দি মানে হিন্দু নয়, এটা আঞ্চলিক ভাষা, নানা ভাষার পরিধানে
দেশটা মোদের খাসা...
অনেক অণু অনেক হনু বাঁধন ভাঙতে চায় , রক্ত চোক্ষে বোঝাতে হবে এটা সঠিক পথ নয়...। বর্তমান কবি শিবেন গুহর লেখা এই কবিতা অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল সোমবার হাওড়ার সাঁতরাগাছির দু নম্বর সুলতানপুরে । ওরা কেউ নাসিফা খাতুন , আরশাদ মোল্লা , আব্দুল হান্নান মোল্লা। আবার ওরা কেউ আলিয়া খাতুন , ইসমাইল । কারোর বয়স সাত , আট তো কারোর বয়স নয় , দশ। ৭৭তম প্রজাতন্ত্র দিবসে স্বেচ্ছেসেবী সংগঠন সেবার আলো সংগঠনের স্কুলের ছাত্র ছাত্রী এরা। প্রত্যেকের হাতে জাতীয় পতাকা। মুখে জয় ভারত স্লোগান। এটি ভারতবর্ষ। কোনও প্রতিবেশি দেশ নয়। যেখানে সংখ্যালঘুদের নিপীরণ করা হয়। ভারতবর্ষের কেন্দ্র সরকার কিংবা রাজ্য সরকার এখানকার সংখ্যালঘু ভাই বোনদের আপন করে নিয়েছে বলেই এত দেশাত্ববোধ তাদের মধ্যে । প্রতিবেশী দেশে যেখানে এই ঐক্যতা নেই। হাওড়ার সেবার আলো সংগঠনের প্রাণপুরুষ শেখ মোবারক জানান ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দুদের পাশাপাশি বহু মুসলমান প্রাণ বলিদান করেছেন। তিনি বলেন টিপু সুলতান বলেছিলেন শিয়ালের মত একশো বছর বাঁচার থেকে সিংহের মত একদিন স্বাধীনভাবে বুক চিতিয়ে বাঁচা অনেক শ্রেয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ হিন্দূ মুসলমানদের রাখী পড়িয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে বেঁধেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম দেবী কালীর সাধক ছিলেন। তাই ধর্ম নয় আমাদের পরিচয় আমরা ভারতবাসী বলে তিনি জানান । মোট কথা প্রজাতন্ত্র দিবসে সোমবার সকালে এক টুকরো ভারতবর্ষের উদাহরণ ফুটে উঠলো এখানে । বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য । এটা ভারতবর্ষ । প্রতিবেশী দেশ নয়। কোনও বিদ্বেসী মনোভাব এখানে না !
