অমিত জানা, হাওড়া:
আপনারা শুনছেন আকাশবাণী । এখনকার নিবেদন সুর সঙ্গমের শাস্ত্রীয় সংগীত । বেজে উঠলো সরোদ , ভাওলেন ও সেতারের যুগলবন্দিতে অসাধারণ সংমিশ্রণ । চল্লিশ বছরের আগেরকার সেই নস্টালজিয়া ভাব ফুটে উঠলো এবার শনিবার সন্ধ্যায় হাওড়ার শরৎ সদন এক নম্বর পেক্ষাগৃহে ।
হাওড়ার সুর সঙ্গম ও ভারতীয় বিদ্যাভবন কোলকাতার উদ্যোগে আয়োজিত হল এই চল্লিতম বার্ষরিক ক্লাসিকাল মিউজিক কনফারেন্স । সেখানেই ফুটে উঠলো আকাশবাণী কোলকাতার একমুঠো অতীত স্মৃতি । রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত সরোদ বাদক শিল্পী পন্ডিত অলোক লাহিড়ী ও তাঁর ছেলে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিষেক লাহিড়ীর উদ্যোগে আয়োজিত এই উচাঙ্গ সংগীতের অনুষ্ঠানের সূচনা করলেন রাজ্য মন্ত্রী সভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য অরূপ রায় । তিনি বলেন এই অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক শিল্পীরা উপস্থিত আছেন। পাশাপাশি হাওড়া জেলার শিল্পীদের নিয়ে এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুনমুগ্ধকর। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিখ্যাত তবলাবাদক বিক্রম ঘোষ । তাঁর গুরু পন্ডিত এস শেখরনের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দিতে আয়োজিত অনুষ্ঠান সকলের মনকে জয় করে নিল । অনুষ্ঠানের প্রধান উদ্যোক্তা পন্ডিত অলোক লাহিড়ী জানান এখানে আট বছরের ছেলে থেকে শুরু করে ছাপান্ন বছরের শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেছেন। মানুষের মনকে সতেজ ও মানসিক শান্তি দেয় এই উচাঙ্গ সংগীত। দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে তাঁরা এই অনুষ্ঠান করছেন। শাস্ত্রীয় সংগীতকে এক ছাতায় নিয়ে আসছেন। হাওড়ার রামরাজাতলায় তাঁর বাসভবনে তিনি শিক্ষাপ্রদান করেন। পাশাপাশি দেশি বিদেশী অনেক ছাত্রীদের তিনি শিক্ষা দেন বলে জানান পন্ডিত অলোক লাহিড়ী । তাঁর ছেলে রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিষেক লাহিড়ী জানান অসুস্থ মানুষদের মানসিক শান্তি দেয় এই উচাঙ্গ সংগীত। বাস্তবতা যতই আধুনিকমুখী হোক না কেন এর গুরত্ব কখনোই কমে নি বলে তিনি জানান। বিখ্যাত তবলাবাদক বিক্রম ঘোষ জানান সুর সঙ্গমের প্রতিষ্ঠাতা পন্ডিত অলোক লাহিড়ীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক একটা পরিবারের মত। বাস্তবতা যতই কঠিন হোক না কেন এর গুরত্ব কখনোই কমবে না গুনী মানুষদের কাছে। বরঞ্চ আরও বাড়ছে বলে তিনি জানান । এদিন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন ভারত ও ইউকের জনপ্রিয় শিল্পী দেবস্মিতা ভট্টাচার্যসহ আরোও অনেক আন্তর্জাতিক শিল্পীরা।
