সেখানে একটি সঙ্গে মিশে গিয়েছে পাহাড় ও সমতল। যেখানে পাহাড়ি ফল ছাড়াও আছে সমতলের ফলের গাছ। আছে একাধিক ফুলের গাছও। শুধু তাই নয় , সেখানে আছে সবজির গাছও। এটা কোনও গাছের নার্সারি নাকি ? নাকি মুক্ত পরিবেশে ডানা মেলে ওড়ার অনুভূতি ? না , এটি একটি ছাদের বাগান । প্রায় পঞ্চাশ রকমের গাছ নিয়ে প্রায় দুশোটি গাছ একই ছাদের মধ্যে। হাওড়ার জগাছার ধাড়সা কাঁটাপুকুরের লালবাবা ক্লাবের কাছে গেলেই দেখতে পাওয়া যাবে এই ছাদের বাগান। পরিবেশ প্রেমী তারকনাথ সাউ এই অসাধ্য সাধন করেছেন। তিনি বলেন শহর এলাকায় গাছ বসানোর জায়গা কমে আসছে। তাই তিনি ছাদের মধ্যেই এই গাছ বসিয়েছেন।
তিনি বলেন পৃথিবী থেকে আমরা অনেককিছু নিয়েছি। এবার পৃথিবীকে ফিরিয়ে দেবার পালা। তাই পৃথিবীকে অক্সিজেন ফিরিয়ে দেবার জন্যই তাঁর এই চিন্তা ভাবনা। পাশাপাশি নিজের ফল নিজের সবজি নিজে জোগাড় করার চিন্তা থেকেই এই চিন্তাভাবনা তাঁর । ঠিক কি কি ফল , ফুল ও সবজি আছে এই বাগানে এই প্রশ্ন করায় তিনি বলেন পাতি লেবু, কমলালেবু, ড্রাগন ফল, পেয়ারা, আম, পেঁপে থেকে শুরু করে গোলাপ ফুল , চন্দ্রমল্লিকাসহ বিভিন্ন রকমের ফুল চাষ করেন এই ছাদের মধ্যে ।
পাশাপাশি পালং শাক, নটে শাক , লঙ্কা, সশনে ডাঁটা সহ আরও বিভিন্ন রকমের গাছ লাগানো আছে এই ছাদে বলে তিনি জানান । তিনি বলেন এই গাছ চাষ করার জন্য কোনও কেমিক্যাল সাড় তিনি ব্যবহার করেন না। ঘরের উচ্ছিষ্ট খাবার ও পাতা দিয়ে সার বানিয়ে এই গাছ চাষ করেন বলে তিনি জানান। মোটকথা এখানে একই ছাদের মধ্যে এই বিপুল গাছের সম্ভার একটুকরো অরন্যের অনুভূতি তা বলা যেতেই পারে। যা এই কংক্রিটের সভ্যতায় এক প্রকার সবুজ বিপ্লব ।



