৮৮ জন রক্তযোদ্ধার সাহসিকতাকে “আমরা ফ্যামিলি গ্রুপ”-এর কুর্নিশ।
"মায়ের সিঁদুরের জন্য যদি ধ্বংস হয় পাকিস্তান, তবে মায়ের প্রাণের জন্য রক্তদান করব না কেন?"
— এই উক্তির মধ্যেই যেন গুঞ্জরিত হল দেশপ্রেম, মানবতা ও আত্মত্যাগের এক অপূর্ব সমন্বয়। এমনই এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল রাজ্যের অন্যতম মানবিক সংগঠন “আমরা ফ্যামিলি গ্রুপ”, । যারা সম্প্রতি সম্পন্ন করল তাদের পঞ্চম বর্ষপূর্তির রক্তদান উৎসব।
এই উৎসবে অংশ নেন মোট ৮৮ জন রক্তদাতা, যাঁদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ ও ২৬ জন নারী।
শুধুমাত্র রক্তদানের একটি আনুষ্ঠানিকতা নয় — এটি হয়ে উঠেছিল এক জীবনদায়ী আন্দোলন, যেখানে প্রতিটি রক্তবিন্দু যেন লিখে গেল মানবতার এক অমর ইতিহাস। এই দিনটির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত তিন বিশেষ অতিথি। কার্গিল যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীরসিংহ সাব মেজর নরেশ চন্দ্র দাস, পুলওয়ামা হামলায় বীর শহীদ জওয়ান বাবলু সাঁতরার মা শ্রীমতী মনোলতা দেবী এবং ১২৯ বার রক্তদানে রেকর্ডধারী রক্তযোদ্ধা সুধীর সাহা । তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানে এনেছিল এক অনন্য গৌরব ও অনুপ্রেরণার ছোঁয়া।
এই বিশাল উদ্যোগের পেছনে ছিলেন সংগঠনের নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবক দল, চিকিৎসকবৃন্দ, এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা। যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন প্রথম থেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তাঁদের অবদানে রক্তদান উৎসবটি হয়ে উঠেছে বাস্তবিক অর্থেই এক "মানবতার উৎসব"। প্রসঙ্গত “আমরা ফ্যামিলি গ্রুপ” রক্তদানেই থেমে থাকে না। বছরের ৩৬৫ দিন এই সংগঠন জরুরি রক্তের চাহিদা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
বহু ক্ষেত্রেই সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে নিজের হাতে মুমূর্ষু রোগীকে রক্তদান করে থাকেন।এছাড়াও, এই সংগঠনের একাধিক সামাজিক উদ্যোগ ইতিমধ্যেই মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। সংগঠনের কর্ণধার রাজা ব্যানার্জী এক আবেগঘন বার্তায় বলেন, "যদি মায়ের সিঁদুরের জন্য ধ্বংস হয় পাকিস্তান,
তবে মায়ের প্রাণের জন্য কেনো করব না রক্তদান। এই বার্তা কেবল একটি সংগঠনের বক্তব্য নয় — এটি যেন প্রতিটি মানবিক হৃদয়ের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, যে প্রতিজ্ঞা রক্তে লেখা মানবতার নামে।









