মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া ১ নম্বর ব্লকের তপনা গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ভেকুটাল গ্রামে প্রশাসনের তৎপরতায় রুখে দেওয়া হল এক নাবালিকার বিয়ে।
তপনা পঞ্চায়েতের ভেকুটাল নাবালক কন্যা, বর্তমানে বাগান্ডা জটাধারী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। পড়াশোনায় ভালো, কিন্তু দারিদ্র্যের কারণে তাঁর বিয়ে ঠিক হয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা এলাকায়।
বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালবেলায় বিয়ে বন্ধ করতে ভেকুটাল গ্ৰামে উপস্থিত হন উলুবেড়িয়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও এইচ.এম. রিয়াজুল হক। সঙ্গে ছিলেন উলুবেড়িয়া থানার এ এস আই সঞ্জীব কুমার দাস, ব্লক আধিকারিক মোহাম্মদ আইয়ুব আলি ও মোহাম্মদ ফিরোজ।
বিডিও সাহেব ও তাঁর দল নাবালিকার পরিবারকে বোঝান যে, নাবালিকা মেয়ের বিয়ে আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর ফলে ভবিষ্যতে মেয়েটির শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি হতে পারে।
পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের কথা শুনে নিজেদের ভুল স্বীকার করে নেন এবং অঙ্গীকার করেন, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তাঁরা মেয়ের বিয়ে দেবেন না।
পরিবারটি স্বেচ্ছায় লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়ে জানায়, তারা আগামীকাল লিলুয়া হোমে গিয়ে আরমিনার কাউন্সেলিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন এবং মেয়েকে সঠিকভাবে গড়ে তুলবেন। উলুবেড়িয়া থানাকেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য নাসির উদ্দিন খান ও তপনা পঞ্চায়েতের প্রধান আসমিনা বেগমকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তারা বলেন কেউ বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন না, প্রশাসনের এই ভুমিকা কে তারা ধন্যবাদ জানান।
এই ঘটনা সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করে যে, প্রশাসনের সদিচ্ছা ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে এখনও অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধ করা সম্ভব। বিডিও এইচ.এম. রিয়াজুল হক ও তাঁর দলের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক ইতিবাচক।



