অমরপুরে বসন্ত উৎসব উদযাপনে বাঙালি সংস্কৃতির ছোঁয়া
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া:
বৃন্দাবনে কৃষ্ণ, রাধা ও অপর গোপীদের সঙ্গে রং খেলতেন— সেই রং খেলার রীতি সমাজ-সংস্কৃতিতে দোল উৎসব হয়ে ওঠে। দোল ফাল্গুনী পূর্ণিমার উৎসব। দোল আর হোলির সেই যুগল ঐতিহ্যকে রবীন্দ্রনাথ বসন্তোৎসবের মধ্যে শ্রীময় ও সুসংস্কৃত করে তুলেছিলেন। তা হয়ে উঠেছিল বর্ণময় ঋতু উৎসব, ‘বসন্তের উৎসব’। বসন্ত উৎসব উপলক্ষে জেলায় জেলায় রকমারি আয়োজন। কোথাও বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আবার কোথাও দল বেঁধে খেলা হয় দোল।রঙের উৎসব মানেই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসব ।
তবে সময় বদলেছে। অনেক বসন্ত পার করে কোথাও যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের বসন্ত উৎসব। তবে বাঙালির সেই ফিকে হয়ে যাওয়া রঙ ও বসন্ত উৎসব ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য প্রতিবছরের মত এবছরও বসন্ত উৎসব উৎযাপন হল পূর্ব বর্ধমানের অমরপুরে। অমরপুর নীলবিনা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির উদ্যোগে দোলের আগে বসন্ত উৎসব পালনে ফিরে এল একটুকরো অতীতের ছায়া । মূলত ডাক্তার প্রবীর পালের উদ্যোগে আয়োজিত হল এই বসন্ত উৎসব তাঁর বাগানবাড়িতে। রবীন্দ্র নাচ , বাউল গান ও রবীন্দ্র সংগীতে মুখরিত তখন এলাকা । পাশাপাশি আবির খেলায় মাতলেন এলাকাবাসীরা। এমনকি রবীন্দ্র নৃত্যের তালেতালে এলাকায় আবির খেলার পাশাপাশি হল প্রভাতফেরি। ডাক্তার প্রবীর পাল জানান দোলের আগে তাঁরা প্রতিবছরই এভাবেই উৎদযাপন করেন বসন্ত উৎসব। বাঙালির হৃত সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা ও রাবীন্দ্রিক জগতকে পুনরায় মানুষের মনে জাগরিত করার জন্যই তাঁদের এই উদ্যোগ বলে তিনি জানান।


