দেবের শিলান্যাস করা সেতুর কাজ থমকে , ভগ্ন সেতুতে ঝরল প্রাণ, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী
নিজস্ব প্রতিনিধি, পশ্চিম মেদিনীপুর
পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল ব্লকের দেওয়ানচক-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের কনকপুরে ভগ্নপ্রায় সেতু থেকে পড়ে মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার রাতে গুডলিগ্রাম থেকে পুজো সেরে বাড়ি ফেরার পথে ভগ্ন কাঠের সেতু থেকে পড়ে মৃত্যু হয় গ্রামের পুরোহিত নিশিথ চক্রবর্তীর (৪১)। শুক্রবার সেতুর নিচে জল থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
দীর্ঘদিন ধরেই ওই সেতুটি এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। কাঠের তৈরি সেতুটি বহু বছর ধরে চলাচলের অনুপযুক্ত। গত বন্যায় সেতুর অবস্থা আরও ভেঙে পড়ে। স্থানীয়রা বহুবার পঞ্চায়েতে সেতুটি সংস্কারের দাবি জানালেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত ২০২০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাংসদ দেব এই স্থানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের জন্য শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু চার বছর পেরিয়ে গেলেও সেতুর কাজ শুরু হয়নি। তার মধ্যে এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে এলাকার মানুষ।
মৃতের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে কয়েকশো গ্রামবাসী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত উপপ্রধান তরুণ সামন্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা। তার নিজের বাড়ি ওই এলাকায় হওয়া সত্ত্বেও সেতুর সমস্যার সমাধানে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
ঘাটাল পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি বিকাশ কর এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, "সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করতে পারিনি, তার জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। তবে বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। দ্রুত সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হবে।"
তবে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। তাদের দাবি, সেতু নির্মাণের কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে। কাঠের সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের জীবনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


