নিজস্ব প্রতিবেদক,
ভেষজ উদ্ভিদ উদ্যান তৈরী করলো প্রাথমিক বিদ্যালয়,এলোপ্যাথিক ঔষধের অগ্নিমূল্য বাজার ও পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া,দূষিত এই পরিবেশ পরিস্থিতিতে মানুষকে সর্বশান্ত ও অসহায় করে তুলেছে।সেই বিষয়কে মাথায় রেখেই আমাদের বাড়ির আশেপাশের জানা কিছু গাছের অজানা ভেষজ গুণ এবং বহু কঠিন অসুখের প্রয়োজনীয় কিছু দুষ্প্রাপ্য গাছ নিয়ে গড়ে উঠেছে বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের " ভেষজ উদ্যান" ।আমাদের হাওড়া জেলা তথা ভারতবর্ষের প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা ছিল এই ভেষজ উদ্ভিদ নির্ভর।এই ভেষজ উদ্ভিদের গুনাগুন বিচার করেই সাধারণ মানুষ বহু অসুখের চিকিৎসা করে ফেলত।কিন্তু আমাদের অসচেতনতা ও দীর্ঘদিনের চর্চার অভাবে আমরা ভুলতে বসেছি এই সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদের গুনাগুন।যার ফল স্বরূপ বিভিন্ন ঔষধ প্রস্তুতকারক সংস্থা এই সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদ কেই ব্যবহার করে তৈরি করছে বিভিন্ন দামী দামী ঔষধ।আর আমরা আমাদের চর্চা ও অজ্ঞতার ফলে বিভিন্ন অসুখে আক্রান্ত হয়ে এই ঔষধ চড়া দামে কিনে সর্বশান্ত হচ্ছি।তাই মানুষ যাতে এই সমস্ত ভেষজ উদ্ভিদ সম্পর্কে জানতে পারে ও সচেতন হয় সেই জন্য আমাদের এই প্রয়াস " ভেষজ উদ্যান"।বিদ্যালয়ে বনমোহোৎসব সপ্তাহ পালনের মধ্যে দিয়ে এই " ভেষজ উদ্যান " এর শুভ উদ্বোধন হলো। প্রধান শিক্ষক রাজদূত সামন্ত বলেন - বিদ্যালয়ে যে সমস্ত শিশুদের নিয়ে আমাদের বিদ্যালয়ের পঠন - পাঠন সহ বিদ্যালয়ের সামগ্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষে এগিয়ে যেতে হয়,সেই সমস্ত শিশুদের বেশিরভাগই অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে আসে।এবং তারা স্বাস্থ্য বিধান সম্পর্কে খুবই অসচেতন।যার কারণে প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিশুর ছোটো খাটো শারীরিক অসুবিধা লেগেই থাকে।এ
ই শারীরিক অসুবিধার কারণ দেখিয়ে তারা বাড়ি যেতে চায়।আমরাও অনন্যোপায় হয়ে তাদের ছেড়ে দিই।কারণ আমরা শিক্ষক শিক্ষিকারা তাদের কোনো ঔষধ প্রয়োগ করতে পারি না। কিন্তু তাদের এইভাবে অনুপস্থিতি বা শারীরিক অসুস্থতা যেমন পঠন পাঠন কে ব্যাহত করে,সাথে সাথে তাদের মধ্যে স্কুল ছুটের প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়।এই বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে আমরা বিদ্যালয়ে কিছু ভেষজ গাছ লাগিয়েছি ,যার সাহায্যে শিশুদের সর্দি,কাশি, পেটে লাগা, দাঁতের যন্ত্রনা প্রভৃতি ছোটখাটো সমস্যা গুলো বিদ্যালয়েই উপশম করে দিতে পারছি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও গড়ে তুলতে পারছি।শিশুরাও আর বাড়ি যেতে চাইছে না।ছোটো খাটো শারীরিক সমস্যায় আর তারা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতও হচ্ছে না। ফলে এই ভাবে স্কুল ছুট শিশু কমছে।সাথে বিদ্যালয়ের অভিভাবক ও এলাকা বাসীর জন্য প্রেসার,সুগার,কোলেস্টেরল এর মতো অসুখ কে নিয়ন্ত্রন করার মতো কিছু দুষ্প্রাপ্য গাছও লাগিয়েছি ,
যা
র মাধ্যমে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিদ্যালয়ের সাথে মেলবন্ধন ঘটবে ।এই ভেষজ উদ্যানটি গড়ে তুলতে সর্বতভাবে সহযোগিতা করেছেন শিক্ষারত্না পুরস্কার প্রাপ্ত প্রাক্তন প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক তাপস বাঙ্গাল।আজকের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ড . অর্ণব দত্ত,সবুজ সংকল্পের পক্ষে রনজিত দাস,নিউজ 18 বাংলার সাংবাদিক রাকেশ মাইতি,দিন দর্পণের সাংবাদিক সুরজিৎ আদাক প্রমুখ ।






