বেপরোয়া যানচলাচলের বলি বাঘরোল, শ্যামপুর








নিজস্ব সংবাদদাতা,শ্যামপুর 

বেপরোয়া যান চলাচলে প্রাণ সংশয় রাজ্য প্রাণীর! হাওড়ার শ্যামপুরের নাউল হাটের কাছে গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু রাজ্য প্রানী বাঘরোল, রাতের বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের ফলে হাওড়া জেলার শ্যামপুরে ক্রমশই বিপন্নতা বাড়ছে বাঘরোলের।





  রাজ্য-প্রাণী হিসাবে তকমা পাওয়া বাঘরোলের দক্ষিণবঙ্গে অন্যতম বিচরণক্ষেত্র হাওড়ার দামোদর এবং রূপনারায়ণ নদের অববাহিকার নিচু জলাজমি এলাকায়। রাজ্যের বন দফতর ও বিভিন্ন পরিবেশপ্রেমী সংগঠনগুলির ধারাবাহিক প্রচারের ফলে পিটিয়ে বা বিষ দিয়ে মারার ঘটনা সামান্য কমলেও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেপরোয়া যানবাহনের চলাচল। 





  স্থানীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বাগনান ও শ্যামপুরগামী রাজ্য সড়কের উপর নাউল হাটের কাছে একটি ম্যারেজ হলের সামনে ঢোকার রাস্তায় একটি বাঘরোল রাস্তা পারাপার করছিল। সেই সময় একটি দ্রুতগামী চার চাকা গাড়ি সরাসরি ধাক্কা মারে এবং ঘটনাস্থলেই বাঘরোলটির মৃত্যু হয়। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্যামপুর ওয়াইল্ড লাইফ রেসকিউ টিমের সদস্য কমলেশ প্রামানিক ওখান থেকে বাড়ি আসার সময় লক্ষ্য করেন যে বাঘরোল টি ওখানেই মৃত অবস্থায় পড়ে আছে, স্থানীয় সূত্রে খবর নিয়ে কমলেশ প্রামানিক ঘটনা দেখেই এলাকার ছেলেদের কাছ থেকে জেনে যোগাযোগ করেন বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী স্বেচ্ছাসেবক রবি ভৌমিকের সঙ্গে।





  ঘটনার কথা শুনেই স্বপ্নের শহর শ্যামপুর হাওড়া বাসী/ ও শ্যামপুর ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ টীমের সদস্য রবি ভৌমিক এবং তাঁর সহযোগী কমলেশ প্রামানিক মহাশয় ঘটনাস্থলে আসেন।তারপর পরিবেশ কর্মী রবি ভৌমিক ফোন করে বন বিভাগে খবর দেয়, খবর পেয়ে বনবিভাগের হাওড়া ডিভিশনের ৫৮ গেট রেঞ্জের বনকর্মীরা রাতেই গাড়ি নিয়ে এসে বাঘরোলটিকে উদ্ধার করে গড়চুমুক প্রাণী স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। রবি ভৌমিক বৃহস্পতিবার রাত্রে বলেন, ‘‘প্রায়ই গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ যাচ্ছে বাঘরোলের। বাঘরোল বা মেছোবিড়াল পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী। ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এরা তফসিল-১, অর্থাৎ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সংরক্ষণে আওতায়। হাওড়ার মতো জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এদের সংরক্ষণের জন্য বিজ্ঞানসম্মত ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ স্বপ্নের শহর শ্যামপুর হাওড়া বাসী গ্রুপের পরিবেশ কর্মী রবি ভৌমিক জানান, গত এই বছরে হাওড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৮টি বাঘরোলের পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩টিই মেয়ে বাঘরোল।



 যা সংরক্ষণের দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, ‘‘হাওড়া জেলায় বাঘরোলের বসতি বিভিন্ন জলাজমিগুলি বিচ্ছিন্ন ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। তার মধ্যে দিয়ে রয়েছে রাস্তা। ফলে একটি জায়গা থেকে অন্য এলাকায় যাওয়ার সময় তারা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’’ 



বেপরোয়া যানের কবল থেকে বাঘরোল বাঁচাতে গতি নিয়ন্ত্রণ বা আন্ডারপাস তৈরির মতো পদক্ষেপে কাজ হতে পারে বলে জানান তিনি। তবে এ কাজ শুধু বন দফতরের পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘‘জেলা প্রশাসন, ত্রিস্তর পঞ্চায়েত এবং পুলিশকেও এ বিষয়ে সক্রিয় হতে হবে।’’



AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...