খুঁটি পুজোর মধ্য দিয়ে স্বপ্ন উড়ান নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু করল বাছরী যুব সংঘ
সাধারণত শহরতলীর বিশাল বাজেটের পুজো কমিটি গুলি রথযাত্রার দিনটিকে খুঁটি পুজোর জন্য উপযুক্ত দিন হিসাবে বেছে নিলেও মূলত গ্রামীণ এলাকার বড়ো বাজেটের পুজো কমিটি গুলি সাধারণত জন্মাষ্টমীর পূন্যতিথিকে খুঁটি পুজোর জন্য পাখির চোখ করে থাকে।
সেই মর্মে আজ ৬ই সেপ্টেম্বর বুধবার, খুঁটিপুজোর মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর শুভ সূচনা করল গ্রামীণ হাওড়ার শ্যামপুরের বাছরী যুব সংঘ।
এই বছর অর্থাৎ ৫৭তম বর্ষে তাঁদের থিম ভাবনা "স্বপ্ন উড়ান"।
৫০ তম বর্ষে মায়াপুর ইস্কন মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরী মধ্য দিয়ে থিম পুজো শুরু করেছিল এই পুজো কমিটি।
তারপর ৫১তম বর্ষে নেপালের বৌদ্ধ শান্তি স্তূপ, ৫২ তম বর্ষে ভুটানের স্বর্ন মন্দির ও হোগলা পাতার মাতৃ প্রতিমা,৫৩তম বর্ষে দিল্লির লাল কেল্লা ও রেশমি সুতোর প্রতিমা গড়ে একের পর এক রেকর্ড তৈরির মধ্য দিয়ে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিল বাছরীর এই পুজো কমিটি।
এর পরের দুই বছর অর্থাৎ করোনা কালে প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে, বাজেট কাটছাট করে ছোট করেই পুজোর আয়োজন করা হলেও ৫৬ তম বর্ষে ফের কেদারনাথের সুবিশাল মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরী করে থিম পুজোর আয়োজন করে ছিল বাছরী যুব সংঘ। কিন্তু চলতি বছরে দর্শনার্থীদের নতুন করে চমক দিতে স্বপ্ন পূরণের "স্বপ্ন উড়ানকে" থিম হিসাবে বেছে নিয়েছে তাঁরা। পুজো প্রসঙ্গে কমিটির বর্তমান সভাপতি ভোলানাথ ব্যানার্জি বলেন " আমরা বিগত ৫৬ বছর ধরে পুজোর আয়োজন করছি কিন্তু থিম পুজো আয়োজনের পর থেকে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ।
দূর- দুরন্ত থেকে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শনের উদ্দেশ্যে ভিড় জমায়, সকল দর্শনার্থীদের জন্য আমরা বিনামূল্যে পানীয় জল বিতরণ করে থাকি। থাকে বিনামূল্যে পার্কিং জোনের ব্যবস্থাও।" তবে এবারের থিম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সম্পাদক শান্তনু বিশ্বাস উল্লেখ করেন" আমরা একটা শান্তির দেশ তৈরী করছি যেখানে কোন রাজনৈতিক প্রতদ্বন্দ্বীতা নেই, নেই কোনো ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা
আর সেখানে যেতে গেলে আপনাকে চড়তে হবে স্বপ্ন উড়ানে। বাকি চমক আপনারা মণ্ডপে আসলেই দেখতে পাবেন।" বাছরী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিশালক্ষ্মী মাতার মাঠ প্রাঙ্গণে তৈরী হচ্ছে এই স্বপ্ন উড়ান তথা শান্তির দেশ।





