পথ দুর্ঘটনায় রাজ্যপ্রাণী বাঘরোলের মৃত্যু মিছিল থামছেই না শ্যামপুরে।
সম্প্রসারণ হয়েছে বাগনান শ্যামপুর রোড। বেড়েছে গাড়ির গতি। রাস্তা পারাপার করতে গিয়ে সেই গতির বলি হচ্ছে রাজ্যপ্রাণী বাঘরোল সহ একাধিক বন্যপ্রাণী।
আজ সকালে শ্যামপুর থানার দেওড়া এলাকায় গাড়ির ধাক্কায় আমাদের রাজ্যপ্রাণী বাঘরোল কে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন ওয়াইল্ড লাইফ অফ শ্যামপুর সদস্য অনুপম। তৎক্ষনাৎ বিষয়টি শ্যামপুরের বিশিষ্ট পরিবেশ প্রেমী অর্পণ দাস কে জানান। তড়িঘড়ি রেঞ্জ অফিসার রাজেশ বাবু কে ফোন করতে বলে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্য রওনা দেয় অর্পণ দাস, অভীক মাইতি ও জাকির হোসেন।
উল্লেখ্য গত ৪ নভেম্বর ঠিক একই জায়গায় প্রাপ্ত বয়স্ক স্ত্রী বাঘরোলের পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল।
শ্যামপুরে একের পর এক পথ দুর্ঘটনায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন পরিবেশ প্রেমীরা।
মাস ঘনেক আগেই শ্যামপুরের রামনগর এলাকায় একটি শেয়ালকে রাস্তার উপর গাড়ির চাকায় পিষ্ট শেয়াল কে পড়ে থাকতে দেখেন পেশায় চিত্রশিল্পী পলাশ মাইতি।
তার আগে ওই এলাকা থেকেই একটি কুয়ায় পড়ে যাওয়া বাঘরোল ও তার দুই শাবক কে উদ্ধার করা হয়েছিল।
কয়েকমাস আগে বাসুদেবপুর খাড়ুবেরিয়া মোড় এর কাছেই একই ভেবে পথ দুর্ঘটনায় আরো একটি বাঘরলের মৃত্যু হয়। অর্পণ দাস বলেন প্রশাসন সহ
বনদফতরের বিগত তিনবছর ধরেই এই বিষয়টি নজরে আনছি। শ্যামপুরে সব থেকে বেশি বাঘরোল এর দেখা মেলে রামনগর গ্রাম এলাকায়। কিন্তু প্রশাসন, বনদফতরের আজও কোনো হেলদোল নেই। গাড়ির গতি কমানোর জন্য রাস্তার ধারে সাইন বোর্ড, স্পিড ব্রেকার কথা আজও বলা হয়। সাইন বোর্ড বসানো হলেও গাড়ির চালক রা বিশেষ পাত্তা দিচ্ছেনা।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন এলাকাটি বন্যপ্রাণীদের পারাপারের এলাকা। অবিলম্বে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে ক্রমেই বিলুপ্তির পথে চলে যাবে আমাদের রাজ্যপ্রাণী বাঘরোল। তার জন্য দায়ী থাকবে প্রশাসন ও বন দফতর এর অসচেতনতা।

