হাওড়া জেলার উলুবেড়িয়া ১ নং ব্লকের বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঐতিহ্যশীল সেই অভিনব অনুষ্ঠান "বৃক্ষসখা জন্মমাস" আজ পালিত হলো। শুরুর দিকে কেবলমাত্র জন্মদিন হিসেবে পালন করলেও এখন মোটামুটি ভাবে উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে এই অনুষ্ঠান শুধুমাত্র বিদ্যালয় বা গ্রামের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ধীরে ধীরে সারা জেলায় এবং রাজ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। কোনো রাজ্যের রাজা যখন শৃঙ্খলাপরায়ন, কর্মচঞ্চল, কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান হবেন, তখন তাঁর সহযোদ্ধা এবং সেনাপতিরাও অবশ্যই কর্মবীর হবেন। এখানে রাজা হলেন এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজদূত সামন্ত, সহযোদ্ধারা উনার সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা গণ, এবং সেনাপতিরা হলো বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের ছাত্রছাত্রীরা। এর সব কিছুর মেলবন্ধন আজ উৎসবের চেহারা নিয়েছে। বর্তমান সময়ে নিজের কর্মের প্রতি নিষ্ঠাবান প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সংখ্যা খুবই কম। এটার প্রমান পেতে গেলে অবশ্যই বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসতে হবে। স্কুল অন্ত প্রাণ শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক রাজদূত সামন্ত বাবু। সেরকমই উপযুক্ত সহকর্মী তার বিদ্যালয়ের বাকি শিক্ষক শিক্ষিকারা।
অক্টোবর মাসের "বৃক্ষসখা জন্মমাস" আজ পালিত হলো বিদ্যালয়ের আঙিনায়। এই মাসে ১০ জন ছাত্রছাত্রীর জন্মদিন পালিত হলো। এবারে আমন্ত্রিতদের তালিকায় ছিলেন উলুবেড়িয়া মহিলা থানার সম্মানীয়া ওসি সাহেবা পিঙ্কি চক্রবর্তী, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের হাওড়া জেলা সভাপতি মসিউর রহমান, কলকাতা হাইকোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী সুরজিৎ ব্যানার্জি, উলুবেড়িয়ার শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা সংস্থার সম্পাদক শ্রীমন্ত গরানী। ওসি পিঙ্কি চক্রবর্তী বলেন---" এরকম কালচারাল অনুষ্ঠান সাধারণত শহরাঞ্চলে এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ে দেখা যায়। কিন্তু গ্রামাঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রকৃতির সাথে মেলবন্ধনে এরকম অনুষ্ঠান সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেল। এরকম অনুষ্ঠানের যারা উদ্যোক্তা সেই সমস্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী সকলকে নত মস্তকে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করি"। মানবাধিকার কাউন্সিলের হাওড়া জেলা সভাপতি মসিউর সাহেব বলেন--"গাছ লাগান-প্রাণ বাঁচান, জল ধরো-জল ভরো, মাঠে পাঠান-মোবাইল ছাড়ান এই সমস্ত সামাজিক বার্তা গুলো মনের মনিকোঠায় স্থান পেলো।
আমরা সে সমস্ত এলাকায় মানবাধিকারের কাজকর্ম করি সেই এলাকায় এই বার্তাগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবো এবং বাড়মংরাজপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সকলের এগুলো শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। এই বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সব সময় পাশে থাকবো।" শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা সংস্থার সম্পাদক বলেন --" আমি আজকে এখান থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে গেলাম প্লাস্টিক মুক্ত পৃথিবীর। আমি সম্পূর্ণভাবে না করতে পারলেও যতটা সম্ভব বেশি প্লাস্টিক মুক্ত করে আমার কালিবাড়ি এলাকাকে সুস্থ রাখা যায় তার চেষ্টা করব এবং আইন মেনে যদি কোন বেসরকারি সংস্থা বিদ্যালয়কে সহযোগিতা করতে পারে তাহলে আমার সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণ করে দেবো।" ছাত্র-ছাত্রী শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিভাবক এলাকার শুভানুধ্যায়ী মানুষজন এবং যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের আজকে জন্মদিন পালিত হলো তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে আজকের এই অনুষ্ঠান অন্য মাত্রা পেল।





