মালদা মেডিকেল কলেজের সামনেই পড়ে রয়েছে এক বাংলাদেশীর মৃতদেহ



মালদা,  ২৩ সেপ্টেম্বর। বিএসএফের উদাসীনতার কারণেই মালদা মেডিকেল কলেজের সামনেই পড়ে রয়েছে এক বাংলাদেশীর মৃতদেহ এমনই অভিযোগ পরিবারের। কাগজপত্র বৈধ থাকা সত্ত্বেও মৃতদেহ  ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি করছে হিলি সীমান্ত এলাকার বিএসএফের একাংশ বলে অভিযোগ পরিবারের । 


তাই এখন মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গের সামনে কফিনবন্দি দেহ রেখে মৃতের আত্মীয়রা ছুটেছেন কলকাতায় বাংলাদেশের হাইকমিশনারের অফিসে। সেই কমিশনারের অফিসের চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশী নাগরিকের মৃতদেহ ভারত থেকে ওপারে নিয়ে যাওয়া যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর এলাকার হিলি বর্ডার সীমান্তের বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। যার জেরে এখন চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মৃত বাংলাদেশীর পরিবারের আত্মীয়েরা।
পুলিশ ওই স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ওই বাংলাদেশীর নাম শ্রীমন্ত কর্মকার (৫১)। তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তপুর এলাকায়। গত মঙ্গলবার বৈধ কাগজপত্র নিয়েই ভারতে প্রবেশ করেছিলে ওই বাংলাদেশী। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে আচমকায় মালদা শহরের বুড়াবুড়ি তলা এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতেই ওই বাংলাদেশি নাগরিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হলে, পরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় ওই বাংলাদেশীর। এরপরে বৃহস্পতিবারই মৃতের ময়না তদন্ত করা হয় । পরে প্রশাসনিকভাবে সমস্ত কাগজপত্র তৈরি করেই দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হিলি সীমান্ত দিয়ে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগী হয় পরিবারের লোকেরা । আর তাতেই দেখা দেয় চরম জটিলতা।


মৃত বাংলাদেশীরা আত্মীয় লিটন কর্মকার বলেন , সম্পর্কে আমার  দাদা হলেন উনি।  বাংলাদেশ থেকে মালদায় ঘুরতে এসেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বোনের বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। কাগজপত্র সবকিছু ঠিকঠাক করেই দক্ষিণ দিনাজপুরের সীমান্ত দিয়ে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওপারে অমৃতের পরিবারের লোকজনেরা ছিল। কিন্তু বিএসএফ কর্তৃপক্ষ হিলি সীমান্তে মৃতদেহ আটকে দেয়। তারাই জটিলতা সৃষ্টি করে এবং বলে কলকাতার হাইকমিশনারের চিঠি লাগবে মৃতদেহ ওপারে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তারপর এই পুনরায় মৃতদেহ ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে মালদা মেডিকেল কলেজের মর্গে। মর্গের বাইরে গত কয়েক ঘন্টা ধরে মৃতদেহ রেখেই পুনরায় এক আত্মীয় ছুটেছেন কলকাতায়। 
মৃত আত্মীয়দের বক্তব্য, ওই বাংলাদেশীর মৃতদেহ যদি শীততাপ মেশিনের সংরক্ষিত করে না রাখা হয় তাহলে মর্গের বাইরে এইভাবে পড়ে থাকলে দুর্গন্ধ তো ছড়াবেই , সমস্যাও তৈরি হবে। যদিও এই ব্যাপারে এখনো পর্যন্ত কোনরকম তদারকি করতে দেখা যায় নি মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
মৃতের পরিবারের বক্তব্য , এক আত্মীয় কলকাতার বাংলাদেশী হাইকমিশনারের অফিসে গেছেন। ওখান থেকেই বিএসএফ কর্তৃপক্ষ মৃতদেহ ওপারে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাগজ করে নিয়ে আসতে বলেছেন। যতক্ষণ কাগজ না আসছে ততক্ষণ এভাবেই মেডিকেল কলেজের বাইরেই মৃতদেহ নিয়ে বসে রয়েছেন পরিবারের লোকেরা। যদিও এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কর্তারা কোনরকম প্রতিক্রিয়া জানান নি।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...