কল্যাণ দত্ত : পূর্ব বর্ধমান
রবিবার সন্ধ্যায় বর্ধমান ২ নং ব্লকের বড়শুল কিশোর সংঘের উদ্যোগে সান্ধ্যকালীন সেচ্ছায় রক্তদান শিবির অনুষ্ঠিত হয়ে গেল সংঘের সম্মুখীন মাঠে। সেচ্ছায় রক্তদান শিবিরটি আয়োজন করা হয়েছিলো পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভাম্রমান ভলভো বাসে। ২ জন মহিলা সহ মোট ৩০ জন রক্তদাতা সেচ্ছায় রক্তদান করেন। বড়শুল কিশোর সংঘের সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানান, " আজকের সেচ্ছায় রক্তদান শিবিরে মোট ৩০ ইউনিট রক্ত বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টারের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং রক্ত সংগ্রহও করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টার"। পার্থবাবু আরও জানান বর্তমানে প্রচন্ড গরমের জন্য সকালের দিকে রক্তদান শিবির করতে রক্তদাতা সহ অন্যান্যও ব্যাপারে আয়োজনের ক্ষেত্রে খুব অসুবিধা হচ্ছে। এব্যাপারে আমরা বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ ও রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে আবেদন করেছিলাম সান্ধ্যকালীন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে চেয়ে। স্বাস্থ্য দফতর ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টার থেকে আমাদের আবেদন মঞ্জুর করা হয়। এর জন্য বড়শুল কিশোর সংঘের সম্পাদক পার্থ ঘোষ তাদেরকে ধন্যবাদ জানান। এর পাশাপাশি পার্থ বাবু জানান ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টার গুলিতে রক্তের আকাল দেখা দেওয়া সহ থ্যালেসেমিয়া আক্রান্ত রুগী ও অন্যান্য রুগীদের রক্তের অভাবে কোনো রুগী বিপদে না পড়েন তার জন্য বড়শুল কিশোর সংঘের পক্ষ থেকে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড়শুল এলাকায় আনুমানিক ৬০ টি ক্লাব সংগঠন ও এনজিও সংস্থা আছে যাদের কমবেশি সবাই সেচ্ছায় রক্তদান শিবির আয়োজন করতেই পারে কিন্তু তাদের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না আর্থিক সমস্যা, সচেতনতার অভাব, রক্তদাতার সমস্যা ও আয়োজনের অভিজ্ঞতা না থাকার জন্য। তাই আমরা আমাদের বড়শুল কিশোর সংঘের পক্ষ থেকে একটি টিম তৈরি করে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভাম্রমান ভলভো বাস বুকিং, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টারে আবেদন পত্র জমা দেওয়া সহ অন্যান্য সমস্ত ব্যাপারে আমাদের বড়শুল কিশোর সংঘের টিম এলাকার ক্লাব সংগঠনগুলির সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে, যার প্রধান কাজ এলাকার কোনো রুগী রক্তের অভাবে বিপদে না পড়েন ও ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টার গুলিতে রক্তের ঘাটতি মেটাতে এই উদ্যোগ। পার্থ বাবু জানান রক্তদান শিবির আয়োজন সংক্রান্ত সংগঠিত করার যে টিম তৈরী হয়েছে তাদের আবেদনে সাড়া দিয়ে বড়শুল এলাকারই বড়শুল কুমীরকোলো ইয়ং স্টার ক্লাব, বড়শুল পরিমল স্মৃতি সংঘ ও দক্ষিণ গোপালপুর কালিমাতা সংঘ এই ৩ টি ক্লাব সংগঠনের পক্ষ থেকেও সান্ধ্যকালীন সেচ্ছায় রক্তদান শিবির এর আয়োজন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভাম্রমান ভলভো বাসে। গত ১৩ ই মে ও ১৫ ই মে ৪ টি ক্লাব সংগঠনের পক্ষ থেকে এই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। এই ৪ টি রক্তদান শিবির থেকে মোট ১০০ ইউনিট রক্ত সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক সেন্টারকে দেওয়া হয়।
ক্লাব সম্পাদক পার্থ ঘোষ জানান আগামী ১৭ ই জুন জগদাবাদ শিবতলা নিউ তরুণ সংঘ ১৭ ই জুলাই বড়শুল নিউ সান ক্লাবের পক্ষ থেকেও মোট ১০০ ইউনিট রক্ত সংগ্রহের লক্ষমাত্রা রাখা হয়েছে। এলাকার আরও অনেক ক্লাব সংগঠনের কর্তৃপক্ষের সাথে কথাবার্তা চলছে সেচ্ছায় রক্তদান শিবিরের মত মানবিক উদ্যোগ গ্রহন করে থ্যালেসেমিয়া আক্রান্ত রুগী দের মুখে হাসি ফোটাতে যাদের অন্যান্য সুস্থ স্বাভাবিক সাধারণ মানুষের মত তাদেরও বেঁচে থাকার অধিকার আছে এই সমাজে। এছাড়াও সমস্ত ব্যাপারে সহযোগিতায় FBDOI ও WBVBDF সংস্থা।

