কল্যাণ দত্ত :পূর্ব বর্ধমান
গাছের টেণ্ডার নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে বনপাশ পঞ্চায়েতে তুমুল বিক্ষোভ স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের। ঘটনাস্থলে ভাতার থানার পুলিশ গিয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করেন।
গাছের টেণ্ডার নিয়ে অনিয়ম করা হয়েছে এই অভিযোগ তুলে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভাতার ব্লকের বনপাশ পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন বেশকিছু গ্রামবাসী।ঘটনার জেরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে ভাতার থানার পুলিশ। বনপাস গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান দীপ্তি মন্ডল অফিসে অনুপস্থিত থাকায় উপপ্রধান শেখ আহমদ আলী কে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় গোষ্ঠীর সদস্যরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে লাগানো ওই গাছগুলি তাদের না জানিয়েই টেণ্ডার করে বিক্রি করার তোরজোর চলছে। খুব কম টাকায় বিক্রির হিসাব দেখানো হচ্ছে।
বনপাশ পঞ্চায়েতের মোহনপুর ও ধান্দলসা গ্রামের পাশে ক্যানেলের ধারে পাঁচ বছর আগে পঞ্চায়েত থেকে ওই গাছগুলি লাগানো হয়েছিল। গাছগুলির দেখভালের জন্য এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওইসমস্ত গাছ বিক্রির সময় গোষ্ঠীর সদস্যরা ৭০ শতাংশ মূল্য পাবেন। বাকি জমা পড়বে পঞ্চায়েতের খাতে। ইদানিং ডিভিসির সেচনালা সংস্কারের কাজ হওয়ায় গাছগুলি কাটার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। সপ্তাহ খানেক আগে বনপাশ পঞ্চায়েত থেকে টেণ্ডার ডাকা হয়। কিন্তু গোষ্ঠীর সদস্যরা অভিযোগ তোলেন গাছগুলি যে দামে বিক্রি হওয়ার কথা তার চেয়ে অনেক কম টাকায় টেণ্ডার করা হয়েছে, তার ফলে উপযুক্ত পারিশ্রমিক তারা পাবেন না। এছাড়াও তাদের অজান্তে গাছগুলি টেন্ডার করা হয়েছে। সকলের উপস্থিতিতে নায্যমূল্যে টেণ্ডারের পর তবেই গাছ বিক্রির দাবি জানান বিক্ষোভকারীরা। পঞ্চায়েতের বিক্ষোভের পর গোষ্ঠীর সদস্যরা মিলে বিডিওর কাছেও স্মারকলিপি জমা দেন।
এ বিষয়ে পঞ্চায়েত প্রধান দীপ্তি মন্ডল এর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি।
ভাতার ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অরুণ কুমার বিশ্বাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ হলে তিনি জানান। অভিযোগ জমা পড়েছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ইতিমধ্যে গাছ কাটা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

