কল্যাণ দত্ত ::পূর্ব বর্ধমান
উৎসবে মাতলো বর্ধমানের একশো আট শিব মন্দির। করোনার সংক্রমণ একেবারেই কমে যাওয়ায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু পুণ্যার্থী শিবরাত্রির পুজো দিতে মন্দির চত্বরে ভিড় করেছেন। দিনভর অগণিত ভক্তের ভিড়ে উত্সবমুখর ইতিহাস প্রাচীন এই মন্দির চত্বর।
অনেকেই এখানে একশো আট মন্দিরে ঢুকে শিবলিঙ্গে জল ঢেলে ব্রত পালন করছেন। শিবরাত্রি উপলক্ষে মেলা বসেছে মন্দির চত্বরে। মোতায়েন করা হয়েছে বাড়তি পুলিশ বাহিনী।
বর্ধমানের মহারানি বিষণকুমারী বর্ধমানের নবাবহাটে ১০৮ শিবমন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। জানা যায় মন্দিরের নির্মাণ শুরু হয়েছিল ১৭৮৮ খ্রিস্টাব্দে। শেষ হয়েছিল ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে। সেই সময় বর্ধমান সংলগ্ন নবাবহাট এলাকায় মহামারি দেখা দিয়েছিল। বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। স্বজনদের হারিয়ে শোকে মুহ্যমান হয়ে গিয়েছিলেন এই এলাকার বাসিন্দারা। এলাকায় মন্দির গড়ে বাসিন্দাদের ঈশ্বরমুখী করে তাঁদের শোক ভোলাতে চেয়েছিলেন বর্ধমানের মহারানি।
সেই ভাবনা থেকেই নবাবহাটে এই একশো আট শিব মন্দির গড়েন তিনি, বলেই জানা যায় । মহা আড়ম্বরে একশো আট মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। জপমালার আদলে ১০৮ টি এবং অতিরিক্ত আর একটি, মোট ১০৯ টি স্থাপত্যকে গেঁথে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই মন্দির। এই ১০৯ তম মন্দিরটি প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে লক্ষ সাধুর উপস্থিতি ঘটেছিল।
মন্দিরগুলির গঠন একই রকমের। ওড়িশার বালেশ্বরের মন্দিরের আটচালার নকশার আদলে নির্মিত সেগুলি। মন্দিরগুলির অবস্থান যেমন পাশাপাশি, তেমনই প্রতিটি মন্দিরের সামনেই আছে খোলা টানা বারান্দা। প্রতিটি মন্দিরই একটি দরজার। প্রতিষ্ঠার সময়ে সবগুলি মন্দিরের সামনেই একটি করে বেল গাছ রোপন করা হয়েছিল।
মন্দিরের সামনে জলাশয় রয়েছে। মন্দির চত্বরে বেল গাছের আধিক্য চোখে পড়ার মতো।

