প্রতিবাদী ছাত্র নেতা আনিস খান হত্যা মামলায় আমতা থানার দুজন পুলিশ কর্মী ও একজন হোমগার্ডেকে সাসপেন্ড করা হল ।
যদিও এই পর্যন্ত ঘটনায় তিন জনকে সাসপেন্ড করাতে খুশি নয় মৃত আনিস খানের পরিবার।
পরিবারের বক্তব্য আগে দোষীদের চিহ্নিত করুক।
গ্রেফতার করুক তারপর খুশি হব।
অপরদিকে সোমবার সন্ধ্যায় হাওড়ার আমতা থানায় উপস্থিত হন সিটের সদস্যরা।
এরপরই দীর্ঘ সময় তারা সেখানে বিশ্রাম নিয়ে গভীর রাত্রে মৃত ছাত্র আনিস খান বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে ইতিমধ্যে খবর আসে আনিসের বাড়িতে তার পরিবারের লোকেরা ঘরের দরজা তালা দিয়ে দিয়েছে এবং গ্রামের মানুষ তারাও কিন্তু রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে।
তাদের একটাই বক্তব্য মিডিয়া এবং সিবিআই ছাড়া কাউকেই প্রবেশ করতে দেবেন না। অতএব বাধ্য হয়েই রাত দুটো পাঁচ নাগাদ শীটের সদস্যরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তবে আগামী 10 দিনের মধ্যে তাদেরকে রিপোর্ট দিতে হবে এই খুনের তদন্তে।
তবে কিভাবে ওনারা পুনরায় কবে এবং কখন তদন্ত শুরু করবেন সেটাই এখন দেখার। প্রসঙ্গত আমতা থানার ভেতরে সিট এসে পৌঁছায় সোমবার সন্ধ্যে সাতটা আটটা নাগাদ করে।
রাত পৌনে দুটো নাগাদ তাদের বৈঠক শেষ হয় । ওখানে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া গ্রামীণ এর পুলিশ সুপার সৌম্য রায়। বৈঠক চলার পর তারা আমতা থানা থেকে বেরিয়ে কলকাতার দিকে রওনা দেন। আনিশ কান্ডে সাসপেন্ড আমতা থানার তিন পুলিশকর্মী, এ এস আই, নির্মল দাস, কনস্টেবল জিতেন্দ্র হেমব্রম, ও এক হোমগার্ড । কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে এই সাসপেন্ড । ঘটনার দিনে এই তিন পুলিশ কর্মীর গতিবিধিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
রাতে আমতা থানায় এসে আমতা থানার পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে খতিয়ে দেখেন সিটের তদন্তকারীরা। তারপরেই তিন পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। এই সাসপেন্ড হওয়া প্রসঙ্গে মৃতের পরিবারের এক আত্মীয় মঙ্গলবার জানান, সাসপেন্ড করেছে তিনজনকে। আগে আসামি চিহ্নিত করুক। সেদিন কে এসেছিল আগে জানুক। তাদের গ্রেফতার করুক।
তবে বুঝবে পুলিশ কিছু করেছে। আমাদের পুলিশের উপর ভরসা নেই। দিদি যদি সত্যিই আনিসকে ভালবাসেন, আমাদের নাগরিক ভাবেন তাহলে দিদি আসলে বলবো তিনি যেন সিবিআই তদন্তের মধ্যে দিয়ে প্রকৃত দোষীদের ধরিয়ে দিক। আনিসের ফোন সম্পর্কে বলেন, ফোন আমরা পুলিশের হাতে দেব না। ফোন আমরা কোর্ট কিংবা সিবিআই এর কাছে দেবো। এ সম্পর্কে মৃত ছাত্র নেতা আনিসের বাবা সালিম খান বলেন, তিনজনকে সাসপেন্ড করেছে তাতে আমি খুশি হইনি। বরঞ্চ অখুশি হয়েছি। যদি দোষীদের গ্রেফতার করতো তাহলে খুশি হতাম। তিনি অভিযোগ করেন খুন হবার দিন তিনি পুলিশকে ফোন করেছিলেন। পুলিশই তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সালিম খান জানান, মুখ্যমন্ত্রী ভাল। আমাদের সবার মাথার উপর আছেন। তিনি সিবিআই তদন্তের মাধ্যমে আসল দোষীদের ধরিয়ে দিক। আমরা ন্যায় বিচার পাই।
তাহলে আমরা খুশি হবেন বলে জানান আনিসের বাবা সালিম খান।
এদিকে আনিশ খানের বাড়িতে তদন্ত করতে এলেন সিট এর সদস্যসহ পুলিশ আধিকারিকরা। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলার পরে তাঁরা তিনতলার যেখান দিয়ে আনিশ খানকে ফেলে দেওয়া হয়েছিলো সেইখানে গিয়ে তদন্ত করেন। তিনতলার বিভিন্ন অংশ মেপে দেখেন, এবং যাবতীয় তথ্য লিপিবদ্ধ করেন।
এদিন স্পেশাল ইনভেস্টিগেশান টীমের পক্ষে, ডিআইজি সিআইবি অপারেশন, মিরাজ খালিদ, এবং ব্যারাকপুর কমিশনারেটের জয়েন্ট সিপি, ধ্রুবজ্যোতি দে, ঘটনাস্থলে আসেন।



