প্রতিবেদনে - সায়ন দে
২৩শে জানুয়ারি, বাগনান, হাওড়া
রাজ্যপ্রাণির খুনিদের কোনোভাবেই রেয়াত নয়। হাওড়ার বাগনানের কালিকাপুরে যেখানে তিন তিনটে মা বাঘরোলের হত্যার ঘটনা ঘটেছে আজ সেখানে গিয়ে তীব্রভাবে গর্জে উঠল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ। এই অভিযানের শুরু হল নেতাজীর চরণে শ্রদ্ধা জানিয়ে। যে দেশকে বিদেশী শক্তির শৃঙ্খল থেকে স্বাধীন করার জন্য জীবনের সবটুকু দিয়েছিলেন নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু, সেই দেশে এখন আমাদের অবহেলায় বিপন্ন প্রকৃতির উপকারী বন্যপ্রাণিরা। তাই তাদের বাঁচার অধিকার সুরক্ষিত করার লড়াই যেন আর এক স্বাধীনতা সংগ্রাম।
গত ২০ জানুয়ারি বাগনানের কালিকাপুরে তিনটি বাঘরোলের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের তরফে সবুজ মঞ্চের প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে যেভাবে বন ও পরিবেশের উচ্চ দফতরে কড়া ভাষায় চিঠি পত্র পাঠানো হয় তাতে নড়ে চড়ে বসে সকলে। গোটা রাজ্যে তথা দেশ বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। স্যোসাল মিডিয়ায় ক্যাম্পেন শুরু হয় - #JusticeForFishingCat
এরপর আরো চাপ বাড়িয়ে আজ বাঘরোল হত্যার পেছনে দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত শাস্তির দাবী জানিয়ে এলাকার মানুষদের বাঘরোল সংরক্ষণ নিয়ে সচেতন করতে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের তরফে বাগনানের বাঙালপুর, জোঁকা, ও কালিকাপুর গ্রামে বিশেষ প্রচারাভিযান চালানো হল। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বাড়ির সামনেও জানিয়ে আসা হল তীব্র ভাষায় ক্ষোভ।
সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল হাওড়া বনবিভাগ।
উপস্থিত ছিল The Green Meadow, প্রয়াস, Green Chain Movement এর মতো পরিবেশ সংগঠনগুলো।
কালিকাপুর গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল - এলাকার মানুষ এতোদিন এই বাঘরোল সম্পর্কে সচেতনই ছিলেন না। আজকের প্রচারের ফলে এলাকার মানুষ জানালেন তাঁরা এবার এই প্রাণিটিকে বাঁচিয়ে রাখতে এগিয়ে আসবেন। শিশুরাও বাঘরোল বাঁচানোর শ্লোগানে গলা মেলালো।
এভাবেই বন্যপ্রাণী বাঁচানোর আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অন্যরকমভাবে নেতাজীর জন্মদিন পালিত হল পরিবেশকর্মীদের তরফে।

