কল্যাণ দত্ত :পূর্ব বর্ধমান
শুক্রবার সাত সকালে পূর্ব বর্ধমানের বিসি রোডে অবস্থিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকে ডাকাতি। জানা যায় প্রায় ৭-৮ জনের একটি ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র সহ উক্ত ব্যাংকে প্রবেশ করে। ব্যাংকে প্রবেশের সময় কাপড়ে মুখ ঢাকা ছিল ডাকাত দলের প্রত্যেকের । বিভিন্ন প্রকারের আগ্নেয়াস্ত্র ছিল ডাকাত দলের প্রত্যেক সদস্যের কাছে। ব্যাংকে ঢুকে উপস্থিত গ্রাহকদের নির্দিষ্ট জায়গায় বসতে বলে এবং মোবাইল ফোন গুলো কেড়ে নেয় ডাকাত দলের সদস্যরা ।
মারধোর করা হয় দুই একজন ব্যাংক কর্মীদের। ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্যাণ সিংহ রায়, ডিএসপি সুপ্রভাত চক্রবর্তী, আইসি সুখময় চক্রবর্তী সহ জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা এবং সাথে বিশাল পুলিশবাহিনী।
শুরু হয় দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত। জেলা পুলিশের নির্দেশে শুরু হয় জেলা জুড়ে নাকা চেকিং। জেলা পুলিশ সুপার কামনাশীষ সেন প্রাথমিকভাবে সাংবাদিকদের জানান, " ডাকাতের দল প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা নিয়ে চম্পট দেয়। সেই টাকা নিয়ে কিভাবে পালিয়েছে তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আমরা তদন্ত করে দেখছি। ব্যাংকে যতগুলি সিসিটিভি ক্যামেরা আছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে ঘটনার কোনো রকম চিত্র সংরক্ষিত হয়েছে কিনা"।
বর্ধমান শহরে সাতসকালে ডাকাতির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলা জুড়ে। ডাকাতির ঘটনার পরেই জেলা পুলিশের নির্দেশ অনুযায়ী গোটা জেলা জুড়ে চলছে নাকা তল্লাশি । গোটা জেলার সাথে খণ্ডঘোষ থানার পক্ষ থেকে খন্ডঘোষ থানা সংলগ্ন মোড়ে, আম্বা ও কেশবপুর মোড়ে চলে নাকা চেকিং। অপরদিকে রায়না, মাধবডিহি থানা ও সেহারা বাজার ফাঁড়ির পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় চালানো হয় নাকা তল্লাশি।
ডাকাতির ঘটনা শিহরিত এক গ্রাহক সুমিত চৌধুরী জানান, "আমার মেয়ে নার্সিংহোমে ভর্তি সেই জন্য টাকা তুলবো বলে ব্যাংকে এসেছিলাম তারপর দেখি সাত-আটজন যারা প্রত্যেককেই ইয়ং ছেলে মুখে কালো পট্টি বাধাঁ। আমি ঢোকার সাথে সাথে আমায় বলে বসতে আমায় বসতে বলায় আমি বলি কি ব্যাপার বুঝতে বলছেন কেন আমার মেয়ে অসুস্থ আমি টাকা তুলতে এসেছি। তার পরিপ্রেক্ষিতে আমাকে ধমক দিয়ে বলে তুই বস। পরে তারা আমার মোবাইল ফোনটি চায় আমি মোবাইল দিতে না চাইলে তারা বন্দুক ঘোরাতে থাকে। ভয় পেয়ে মোবাইল ফোনটি তাদের হাতে তুলে দিই। তারা প্রত্যেককেই ছিল হিন্দিভাষী। ডাকাতি করে পালানোর সময় মোবাইল ফোনটি অবশ্য ফেরত দিয়ে যায়"।


