বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রচণ্ড আগুনের গরমে খাবার রান্না করা, পরিবেশন করা ও খাওয়ানো শেষ হলে বাসন ধোয়া সহ সকল কাজই মিড ডে মিল কর্মীদের করতে হয়।
এত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও সেখান থেকে খাবার খাওয়ার কোন আইন সঙ্গত অধিকার তাদের নেই। এত পরিশ্রম করে মিড-ডে-মিল কর্মীরা মাসে মাত্র ১৫০০টাকা পায়। এই টাকা পায় বছরে ১২ মাস নয় মাত্র ১০ মাসের । মিড ডে মিল কর্মীদের কোন প্রকার সামাজিক সুরক্ষা, পিএফ, পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা দেওয়া হয় না।
'সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন' এর পক্ষ থেকে বহুবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে মিড ডে মিল কর্মীদের দূরাবস্থার কথা জানানো হয়েছে। কোন ফল হয়নি। এই কর্মীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসা মহিলা। বেশিরভাগ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা পরিস্থিতিতে আজ তারাও কর্মহীন। আজ মিড ডে মিল কর্মীদের বহু পরিবার অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে । এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সারাবাংলা মিড-ডে-মিল কর্মী ইউনিয়ন হাওড়া গ্রামীণ উদ্যোগে ২৪শে ডিসেম্বর উলুবেড়িয়া২ ব্লকে তুলসীবেড়িয়া অঞ্চলের মিড ডে মিল কর্মীদের নিয়ে কামিনা হাইস্কুলে একটি সভা হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন সারাবাংলা মিড-ডে-মিল কর্মী ইউনিয়ন হাওড়া গ্রামীণ জেলা কমিটির সদস্য ঝরনা মাইতি ও শবরী খাটা।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন হাওড়া জেলা এ আই ইউ টি ইউ সি শ্রমিক সংগঠনের সংগঠক নিখিল বেরা ও মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেত্রী মিনতি সরকার। আগামী ১৫ই ফেব্রুয়ারি রাজ্য কর্মসূচি সফল করতে বিভিন্ন জায়গায় সভা করে সংগঠনকে আরো সুসংহত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এছাড়াও মিড ডে মিল কর্মীদের বাড়ির ছেলে মেয়েদের নিয়ে জানুয়ারি মাসের মধ্যে খেলাধুলা প্রতিযোগিতা করার সিদ্ধান্ত হয়।



