সংবাদদাতা-
গঙ্গা মন্ডল,
দীর্ঘ করোনা পরিস্থিতিতে অত্যন্ত অন্যায় ভাবে একটার পর একটা অতিরিক্ত কাজ বিনা পারিশ্রমিকে আশাকর্মীদের দিয়ে করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গত প্রায় দু'বছর ধরে ভীষণ রকমের আর্থিক অরাজকতা, কর্মক্ষেত্রে চূড়ান্ত হয়রানি নিয়ে নিজের জীবনকে বিপন্ন করে আশাকর্মীরা শরীর ও মনকে নিংড়ে দিয়ে কাজ করে চলেছে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় ৫ থেকে ৯মাস পর্যন্ত আশা কর্মীদের ইন্সেন্টিভ এখনোও বাকি। গভীর দুঃখের সঙ্গে আশাকর্মীরা জানান- সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নানান অসুবিধা সত্ত্বেও তারা বাধ্য হচ্ছে কাজ করতে। হাজার একটা সমস্যা নিয়ে বারবার বিভিন্ন দপ্তরে তারা বিক্ষোভ দেখিয়েছে। কিন্তু সরকারি দপ্তর কোন সমস্যার সমাধান করছে না। বারবার "পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন" এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য ভবনে গিয়েছে, কিন্তু কোন কিছুর সমাধান বা সদউত্তর পায় নি। কোনো কাজের জন্য নূন্যতম সময়ও দেওয়া হচ্ছে না।
এরপরে হঠাৎ করে কোন অর্ডার ছাড়াই অত্যন্ত সুচতুরভাবে ৭,৮ মাসের বকেয়া ইন্সেন্টিভকে নানান ভাগে ভাগে কর্মীদের একাউন্টে পাঠাতে শুরু করেছে। তাও এখনও সব জেলাতে নয়। কারুর একাউন্টে ২০০,৫০০ ,১০০০, ২০০০ এরকম সব টাকা ঢুকছে। কোন মাসের টাকা, কিসের টাকা তার কোন জবাব পাওয়া যাচ্ছে না। এমনিতেই ব্যাংক থেকে সবসময়ই কোনো মেসেজ থাকেনা।কী পারপাসে টাকা কিছু বোঝা যায় না ,
কোন মাসের টাকা জানা যায় না ,আর এবারে কোন কিছুরই কোন হদিস পাওয়া যাবেনা ,টাকাও পাওয়া যাবেনা। খুঁটিনাটি সমস্ত কাজের সরকারি অর্ডারএর হুমকি দেওয়া হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে সমস্ত নিয়মকে অমান্য করে সরকার কর্মীদের সাথে প্রায় প্রতারণামূলক আচরণ করেছে। ফলে আজ আমাদের ধৈর্যের সমস্ত সীমা অতিক্রম হয়ে গেছে। তাই কেন্দ্রের এই নতুন সিদ্ধান্তের আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। সাথে সাথে হঠাৎ হঠাৎ বিনা পারিশ্রমিকে কাজ চাপানোর আমরা তীব্র প্রতিবাদ করছি। সময় না দিয়ে কোন কাজ দিলে সে কাজ আমরা বয়কট করতে বাধ্য হব। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বেতন বৃদ্ধি, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, উৎসাহ ভাতা না-পাওয়ার প্রতিবাদে শ্যামপুর১ ব্লকের আশাকর্মীদের উদ্যোগে- ২১শে ডিসেম্বর শ্যামপুর পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাংকের দোতালায় এই ব্লকের তৃতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন হাওড়া গ্রামীণ জেলা আশাকর্মী ইউনিয়নের জেলা কমিটি সদস্য প্রমিলা মন্ডল । এছাড়াও বক্তব্য রাখেন শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সি হাওড়া জেলার সংগঠক- নিখিল বেরা ।
বক্তারা আগামী দিনে সংগঠনকে আরো সুসংহত করে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলে- আগামী ৭ই জানুয়ারি কলকাতার মহাসমাবেশে যোগদান করার আহ্বান জানান। এই সম্মেলন থেকে সীমা সি ্ হয় রায়কে সভানেত্রী, ছায়া ভক্তা ও মিলি মন্ডলকে যুগ্মসম্পাদিকা , শুভ্রা মাঝিকে কোষাধ্যক্ষ করে একটি শক্তিশালী ব্লক কমিটি নির্বাচিত হয়। এই সম্মেলন শেষে আশাকর্মীদের সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি ও ফরমেট প্রথা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে শ্যামপুর মোড়ে পথ অবরোধ করে আশাকর্মীদের স্বার্থ বিঘ্নিত কারিগরী কালা ফরমেট পড়ানো হয়।
সম্প্রতি আশা কর্মীদের দাবি সমূহ:-
১) অবিলম্বে বকেয়া ইন্সেন্টিভ টাকা মেটাতে হবে ।
২) ইন্সেন্টিভ এর টাকা ৭/৮ ভাগে দেওয়া যাবে না ।
৩) সময় না দিয়ে একটার পর একটা কাজ চাপানো যাবে না।
৪) বিনা পারিশ্রমিকে কাজ দেওয়া যাবেনা।
৫) অবিলম্বে ফরমেট প্রথা বাতিল করতে হবে।
** এছাড়াও এই ব্লগের গুরুত্বপূর্ণ কিছু সমস্যা তুলে ধরা হয়।
সংবাদদাতা-
গঙ্গা মন্ডল





