ভারতবর্ষের গণআন্দোলনের ইতিহাসে কৃষক আন্দোলনের এই জয় নি:সন্দেহে একটা গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় ।
সংগ্রামী কৃষক জনগণ কেন্দ্রের বি জে পি সরকারের সমস্ত দমন পীড়ন উপেক্ষা করে অসীম বীরত্বের সাথে এই লড়াই চালিয়ে গেছেন ,সাত শতাধিক কৃষক আত্মাহুতি দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশী-বিদেশী পুঁজিপতি ও তাদের সেবাদাসদের মাথা নত করতে বাধ্য করেছেন|
এক বছর ধরে চলা এই কৃষক আন্দোলনের চাপে কেন্দ্রের বি জে পি সরকার কৃষকদের প্রায় সব দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে|
এই জয় জনগণের মধ্যে একটা আত্মপ্রত্যয়ের জন্ম দিয়ছে|জনগণ গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন যদি সংঘবদ্ধ হওয়া যায়, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে দীর্ঘস্থায়ী মরনপণ আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, তাহলে একটা বর্বর ফ্যাসিস্ট সরকারকে পরাস্ত করা যায়|
দৃষ্টান্তসৃষ্টিকারী এই জয় নি:সন্দেহে পুঁজিপতি শ্রেণীর শোষণ জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত সমস্ত অংশের মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ সৃষ্টি করবে|ইতিহাস সৃষ্টিকারী সংগ্রামী কৃষকদের এস ইউ সি আই কমিউনিস্ট দলের পক্ষ থেকে লাল সেলাম জানাই|
কিন্তু সংকট গ্রস্ত পুঁজিপতি শ্রেণী জনগণের উপর একটার পর একটা আক্রমন নামিয়ে আনবে এবং যত দিন পর্যন্ত আন্দোলনের আঘাতে পুঁজিপতি শ্রেণীকে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে উৎখাত করে সমস্ত ধরনের জুলুম ও শোষন মুক্ত একটা নতুন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা না যাচ্ছে তত দিন প্রর্যন্ত জনগণকে ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে|
এই আন্দোলন প্রকৃত পক্ষে আমাদের এই শিক্ষা দিয়ে গেল, বহুজাতিক পুঁজিই জনগণের আসল শত্রু, মোদি সরকার তাদের মুখোস ছাড়া আর কিছু নয় |
যদিও এই শিক্ষা বর্তমানে প্রাথমিক স্তরের একটা উপলব্ধি মাত্র, কিন্তু এই উপলব্ধি জনগণের চেতনায় আরও স্পষ্ট হয়ে প্রতিভাত হবেই এবং বিপ্লবী শক্তির দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য প্রচেষ্টার পথেই নিপীড়িত জনগণের মধ্যে বিপ্লবী চেতনার জন্ম দেবে | মহান নেতা কমরেড শিবদাস ঘোষ এই শিক্ষাই আমাদের দিয়েছেন|
বহুজাতিক পুঁজির আক্রমনের বিরুদ্ধে এখন শ্রমিক -কৃষক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলছেন।শ্রমিক -কৃষকের এই ঐক্য ক্রমাগত শক্তিশালী হবে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ও মহোত্তর আন্দোলনের জন্ম দেবে|
আন্দোলনের বিজয়ের এই আনন্দের মধ্যে নানা ধরনের গণসংগ্রাম কমিটি গঠন করে আন্দোলনকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে ১১ই ডিসেম্বর বাগনানে শহরে বিজয় মিছিল সংঘটিত হয় l এই বিজয় সভায় বক্তব্য রাখেন এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) হাওড়া গ্রামীণ জেলা কমিটির সদস্য সরোজ মাইতি, বাগনান লোকাল কমিটির সদস্য সীমন্ত ধাড়া সহ অন্যান্যরা।



