মালদা ২ নভেম্বর ঃ
গর্ভবতী মহিলাকে মাটিতে ফেলে পেটে লাথি। তাঁর শ্বাশুড়িকে বিবস্ত্র করে মার। অভিযোগ তীর স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সহ তাঁদের অনুগামীদের বিরুদ্ধে।নির্মম এই ঘটনা মালদার গাজোলের আলালের মুড়িয়াকুন্ডু গ্রামে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেই গর্ভবতী মহিলা মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ার পাশাপাশি অসুস্থ মহিলার শ্বাশুড়ি। এই মুহুর্তে আতঙ্কে গ্রামছাড়া। শুধু তাই নয়,গর্ভবতী মহিলার স্বামীর কম্পিউটারের দোকানে তালা মেরে দিয়েছে অভিযুক্তরা। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও কোনও ফল হয় নি অভিযোগ তাঁদের। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কর্মী বলে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
নিসাদ সেলিম রেজা। মুড়িয়াকুন্ডু গ্রামের বাদিন্দা। এই গ্রামের গা ঘেঁষে চলে গেছে ৮১ নম্বর জাতীয় সড়ক। আর এই জাতীয় সড়ক হওয়ার পর থেকেই প্রত্যন্ত গ্রামের জাতীয় সড়ক লাগোয়া জায়গার দাম জমি মাফিয়াদের দৌলতে আকাশ ছোঁয়া হয়ে গেছে। বহিরাগত প্রমোটার,ঠিকাদার, জমি মাফিয়াদের ভিড় লেগেই থাকে এই গ্রামগুলোতে। পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে থাকে স্থানীয় বা জেলা স্তরের শাসক দলের নেতা কর্মীরা। নিসাদ সেলিম রেজার এমনই একটি জায়গায় ছোট কমপিউটারের দোকান, লাগোয়া বসত বাড়ি। আর সেদিকেই নজর জমি মাফিয়াদের। তাঁদের দখলে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকায় মাঝখানে নিসাদ সেলিম রেজার দোকান বসত ভিটে হওয়ায় তাঁদের জমি প্লট করে ব্যবসা করতে সমস্যা হচ্ছে। এরপরই জমি মাফিয়া তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা কর্মীরা অন্যত্র সরে যেতে বলে কিছু টাকার বিনিময়ে। কিন্তু নিসাদ রাজি না হওয়ায় তাঁর ওপর হামলা চলে।এরপরে নিসাদ পুলিশে অভিযোগ জানানোর পরে হুমকির মাত্রা বাড়তে থাকে। সেদিন নিসাদ বাড়িতে ছিলেন না। ঘরে বিধবা মা এবং ২১ বছরের স্ত্রী ছিলেন। অভিযোগ সেই সময় স্থানীয় তৃণমূল নেতা কামরুজ্জামান, মনিরুজ্জামান, আহাসানুল ইসলাম এবং করিমুল ইসলাম সহ আরও কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। জমির দলিল চায়।জোর করে সেই জমি বিক্রি করানোর জন্যে সই করাতে চাপ দিতে থাকে। নিসাদের মা রাজি না হলে তাঁকে বিবস্ত্র করে মারধর দেওয়া হয়। নিসাদের গর্ভবতী স্ত্রী বাধা দিতে এলে তাঁকে মাটিতে ফেলে পেটে লাথি মারে দুস্কৃতীরা। এরপর বাইরে নিসাদের দোকানে তালা মেরে চলে যায় তাঁদের গ্রাম ছাড়া করার হুমকি দিয়ে। পরে নিসাদ সেলিম রেজা এসে তাঁদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল পরে মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। গাজোল থানায় অভিযোগ জানিয়েও কেউ গ্রেফতার হয়নি বলে অভিযোগ। উল্টে নিজেরাই এখন মালদা শহরে হাসপাতাল চত্বরে রয়েছেন।আতঙ্কে ঢুকতে পারছেন না গ্রামে। যদিও দলের তরফে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে তৃণমূল জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি।