সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বর :
খনির সম্প্রসারণের কাজে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল আদিবাসীদের একটি ধর্মস্থান ।
মঙ্গলবার ধার্মিক রীতি-রেওয়াজ মেনে সেটি সরিয়ে প্রতিষ্ঠা করা হলো অন্য জায়গায় । ঘটনাটি পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত মধুডাঙ্গা গ্রামের ।
ইসিএলের শোনপুর বাজারির খনির সম্প্রসারণের কাজ চলছে । সেজন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের আদিবাসী অধ্যুষিত মধুডাঙ্গা গ্রামটি ।
গ্রামে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে প্রায় দেড়শ টি আদিবাসী পরিবার বসবাস করেন । গাছপালা জঙ্গলে ঘেরা গ্রামটিতে আদিবাসী সমাজের ধার্মিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে একটি জোহর স্থান । আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনের কাছে স্থানটি পবিত্র ও স্পর্শকাতর' । শীঘ্রই এলাকাটিতে কয়লা খননের কাজ শুরু হবে । সেজন্য মধুডাঙ্গা এলাকার আদিবাসীদের খোট্টারডিহি মৌজায় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে সংস্থা । ইতিমধ্যে সেই জায়গায় চলে গেছে বেশ কয়েকটি পরিবার । পুনর্বাসনে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় মধুডাঙ্গাতে এখনো রয়েছে বাকি আদিবাসী পরিবারগুলো । ধার্মিক আচার অনুষ্ঠানের জন্য রয়েছে পবিত্র জোহর স্থানটিও । ধার্মিক স্থানটি গ্রামের অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিল সংস্থা ।
গ্রামবাসীদের সম্মতি নিয়ে মঙ্গলবার জোহর স্থানটি গ্রামের অন্যত্র পুনরপ্রতিষ্ঠা করা হয় । উপস্থিত ছিলেন ইসিএলের সোনপুর বাজারি প্রজেক্টর জেনারেল ম্যানেজার আর,সি মহাপাত্র, পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মদক্ষ অনুভা চক্রবর্তী সহ অন্যরা ।
গ্রামবাসীদের পক্ষে অজয় হাঁসদা জানান গ্রামবাসীদের পূনর্বাসনের কাজ সম্পন্ন হলে নতুন জায়গায় স্থানটি প্রতিষ্ঠা করা হবে । আপাতত সেটি গ্রামের অন্য জায়গায় সরানো হলো । এখন থেকে সেখানেই আদিবাসীদের সমস্ত ধার্মিক অনুষ্ঠান হবে । প্রজেক্টের সম্প্রসারণের কাজ যাতে বিঘ্ন না হয় সেই জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানান তিনি ।


