কল্যাণ দত্ত : পূর্ব বর্ধমান
দেখতে দেখতে শুরু হলো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দূর্গোৎসব। সপরিবারে মর্ত্যলোকে এসেছেন মা উমা। জাতিভেদ নির্বিশেষে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপূজা। জামা কাপড় পরে দূর্গোৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে কোন মানুষ না চায়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ কর্মহীন হয়ে গিয়েছে।ফলে অনেকের কাছেই নতুন কাপড় কেনা এখন স্বপ্ন ছাড়া কিছুই না। বলাই বাহুল্য যে, একটা শ্রেণীর মানুষ পুজোর আনন্দ উচ্ছ্বাস, জাঁকজমক থেকে বঞ্চিত। ইচ্ছা থাকলেও উপায় নেই নতুন বস্ত্র কেনার। তাই সেই সমস্ত মানুষের কথা মাথায় রেখে সদিচ্ছা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার মহা সপ্তমীর পূর্ণ লগ্নে ৩০০-র বেশি কিছু দুস্থ অসহায় মানুষদের হাতে পুজো উপলক্ষে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয় । বিধবা মহিলাদের জন্য সাদা শাড়ি এবং বয়স্ক পুরুষদের জন্য ধুতি এবং বাচ্চাদের জন্য নতুন পোশাকে ব্যবস্থা করেছে সদিচ্ছা ফাউন্ডেশন ।
বলা হয়ে থাকে- ধর্ম যার যার উৎসব সবার , তাই পূজা মণ্ডপের মঞ্চে ,গুইর সর্বজনীন পূজা কমিটি কে সঙ্গে নিয়ে এই বস্ত্র বিতরণ করা হলো , এমন টাই জানিয়েছেন সদিচ্ছা ফাউন্ডেশনের সভাপতি জাহির মন্ডল।
এছাড়াও করোনা পরিস্থিতিতে বহু ক্লাব ,স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাজ কে সম্মান জানাতে বেশ কিছু ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুলিকে করোনা যোদ্ধা সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ ব্লকের গুইর গ্রামের সার্বজনীন দুর্গা পুজো মণ্ডপে মহাসপ্তমীতে ৩০০ দুঃস্থ মানুষদের বস্ত্র বিতরণ করা হয় ।
উপস্থিত ছিলেন খণ্ডঘোষ বিধানসভার বিধায়ক নবীন চন্দ্র বাগ ,জামালপুরের বিধায়ক অলোক কুমার মাঝি , খণ্ডঘোষ পঞ্চায়েত সমিতির সহ - সভাপতি শ্যামল কুমার দত্ত , কৌয়োর অঞ্চলের প্রধান আগমনী দলুই চক্রবতী , সমাজসেবী সফিকুল ইসলাম সহ অন্যান্যরা।
শুধু আজ বলেই নয়, সারা বছর ধরে এই সদিচ্ছা ফাউন্ডেশন দুস্থ অসহায় মানুষদের জন্য কাজ করে থাকে।
যখন করোনা মহামারীর কারণে অক্সিজেন সংকট, তখন সদিচ্ছা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অক্সিজেনের ব্যাংক তৈরি করা হয়েছিল এছাড়াও এলাকার প্রতিবন্ধী মানুষদের হুইল চেয়ার সহ প্রতিবন্ধী সহায়ক সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছিল । এককথায় সদিচ্ছা ফাউন্ডেশন যেভাবে সমাজের দুঃস্থ মানুষের পাশে থাকে তা যথেষ্ট প্রশংসনীয় এমনটাই বলছেন এলাকার মানুষেরা ।
মানুষের পাশে থাকার প্রচেষ্টা পুজোর মধ্যেও চলছে। সদিচ্ছা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে খুশি দুস্থ অভাবী মানুষেরা।

