কিন্তু দুঃখের হলেও একথা সত্য যে এই শ্রমিকরা তাদের নিজস্ব পেশাগত ক্ষেত্রে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার। তাদের নেই কোনো সামাজিক স্বীকৃতি ও সম্মান প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, ইএসআই সহ সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত, এমনকি ন্যূনতম মাইনে টুকুও তাদের জোটে না, স্থায়ী কর্মীদের স্বীকৃতি নেই।
করোণা অতিমারি পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অক্লান্ত ভাবে কাজ করে চললেও সুরক্ষা বর্ম এবং করোণা ভাতা নামমাত্র সরকার ঘোষণা করলেও এই সকল কর্মীরা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সি সহ আরও আটটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে সমস্ত রকম করোণা বিধি মেনে আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর নিম্নলিখিত দাবিতে স্কীম ওয়ার্কারদের সর্বভারতীয় হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে- ২৩শে সেপ্টেম্বর, শ্যামপুরে বিক্ষোভ মিছিল এবং বিদ্যাসাগর মূর্তির পাদদেশে পথসভা হয়।
দাবিসমূহ :-
১) প্রথম সারির করণা যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে । প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং সহকারী নিয়মাবলীর ভিত্তিতে তার বিতরণ করে নিখরচায় সার্বজনীন টিকাকরণ সুনিশ্চিত করতে হবে ।
২) স্কীম ওয়ার্কারদের মধ্যে যারা করণা মোকাবেলায় প্রশাসনিক কাজে লিপ্ত তাদের প্রত্যেকের সুরক্ষা বর্ম সহ আনুষাঙ্গিক সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। নিখরচায় করোনা পরীক্ষা করাতে হবে।
অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করণা আক্রান্ত প্রথম সারির যোদ্ধাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৩)জাতীয় আয়ের 6% স্বাস্থ্য খাতে খরচ করতে হবে। কভিডের বাড়বাড়ন্ত রুখতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও জনসাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। কোভিদ আক্রান্ত নয় এমন রোগের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
৪) প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের( আশা কর্মী, আইসিডিএসকর্মী ও পৌরস্বাস্থ্যকর্মীদের) ক্ষেত্রে ন্যূনতম 50 লক্ষ টাকা বিমা করাতে হবে ।
এক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যরা আক্রান্ত হলে কোভিড চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।
৫) সমস্ত চুক্তিভিত্তিক এবং স্কীম ওয়ার্কারদের করণা উৎসাহ ভাতা 10000 টাকা দিতে হবে এবং বকেয়া সমস্ত বেতন ও ভাতা অবিলম্বে দিতে হবে ।
৬) কর্মরত স্কীম ওয়ার্কারা কোভিদ আক্রান্ত হলে নূন্যতম 10 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ।
৭) শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রম কোড প্রত্যাহার করতে হবে। স্কীম ওয়ার্কারদের শ্রমিক হিসেবে গণ্য করতে হবে ।






