স্কীম ওয়ার্কারদের বিক্ষোভ মিছিল, উলুবেড়িয়া



সারা দেশে বিভিন্ন প্রকল্পে প্রায় এক কোটি মহিলা শ্রমিক বিভিন্ন স্কীমে ( আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়িকর্মী, মিড ডে মিল কর্মী ও  পৌরস্বাস্থ্যকর্মী) বিভাগে কর্মরত- । 


যারা সমাজ অভ্যন্তরে বিশেষ করে মা ও শিশুদের অপুষ্টি দূর করা কাজে ব্যাপৃত। কিন্তু দুঃখের হলেও একথা সত্য যে এই শ্রমিকরা তাদের নিজস্ব পেশাগত ক্ষেত্রে শোষণ ও বঞ্চনার শিকার বলে অভিযোগ।


 বিভিন্ন প্রকল্পে কর্মরত কর্মীদের নেই কোনো সামাজিক স্বীকৃতি ও নেই উপযুক্ত সম্মান প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন, ইএসআই সহ সমস্ত সামাজিক সুরক্ষা থেকে তারা বঞ্চিত, এমনকি ন্যূনতম মাইনে টুকুও তাদের জোটে না, স্থায়ী কর্মীদের স্বীকৃতি নেই।


 করোণা অতিমারি পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অক্লান্ত ভাবে কাজ করে চললেও সুরক্ষা বর্ম এবং করোণা ভাতা নামমাত্র সরকার ঘোষণা করলেও এই সকল কর্মীরা ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 এমতাবস্থায় কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সি সহ আরও আটটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে সমস্ত রকম করোণা বিধি মেনে আগামী ২৪শে সেপ্টেম্বর নিম্নলিখিত দাবিতে স্কীম ওয়ার্কারদের সর্বভারতীয় হরতালের ডাক দেওয়া হয়েছে। 


এই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে ২৪শে সেপ্টেম্বর, উলুবেরিয়া স্টেশন থেকে বিক্ষোভ মিছিল সংঘটিত হয় এবং উলুবেরিয়া রবীন্দ্রভবনে কাছে বিক্ষোভ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বক্তব্য রাখেন অঙ্গনারী ওয়ার্কার এন্ড হেল্পার ইউনিয়নের পক্ষে শুক্লা ঘোষ , মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়নের পক্ষে প্রতিমা মন্ডল ও আশা কর্মী ইউনিয়নের পক্ষে মালবিকা দাস ।  বক্তারা স্থায়ী কর্মচারীর স্বীকৃতি, ন্যূনতম ২১ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে- দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলনের গড়ে তোলার শপথ নেন। সবশেষে বিপ্লবী শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সংগঠক নিখিল বেরা। আগামী ২৭শে সেপ্টেম্বর কৃষক স্বার্থ বিরোধী কৃষি আইন, কালা বিদ্যুৎ আইন ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী 'শ্রম কোড' আইন বাতিলের দাবিতে ভারত বন্ধ সফল করার আহ্বান জানান। দাবিসমূহ :- ১) প্রথম সারির করণা যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দিয়ে সার্বজনীন টিকাকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে । প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং সহকারী নিয়মাবলীর ভিত্তিতে তার বিতরণ করে নিখরচায় সার্বজনীন টিকাকরণ সুনিশ্চিত করতে হবে । 


২) স্কীম ওয়ার্কারদের  মধ্যে যারা করণা মোকাবেলায় প্রশাসনিক কাজে লিপ্ত তাদের প্রত্যেকের সুরক্ষা বর্ম সহ আনুষাঙ্গিক সামগ্রী সরবরাহ করতে হবে। নিখরচায় করোনা পরীক্ষা করাতে হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করণা আক্রান্ত প্রথম সারির যোদ্ধাদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

 ৩)জাতীয় আয়ের 6% স্বাস্থ্য খাতে খরচ করতে হবে। কভিডের বাড়বাড়ন্ত রুখতে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অক্সিজেন এর ব্যবস্থাকে নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও জনসাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে। কোভিদ আক্রান্ত নয় এমন রোগের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

 ৪) প্রথম সারির করোনা যোদ্ধাদের( আশা কর্মী, আইসিডিএসকর্মী  ও পৌরস্বাস্থ্যকর্মীদের) ক্ষেত্রে ন্যূনতম 50 লক্ষ টাকা বিমা করাতে হবে । এক্ষেত্রে পরিবারের অন্য সদস্যরা আক্রান্ত হলে কোভিড চিকিৎসার পুরো দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে।

 ৫) সমস্ত চুক্তিভিত্তিক এবং স্কীম ওয়ার্কারদের করণা উৎসাহ ভাতা 10000 টাকা দিতে হবে এবং বকেয়া সমস্ত বেতন ও ভাতা অবিলম্বে দিতে হবে ।


 ৬) কর্মরত স্কীম ওয়ার্কারা কোভিদ আক্রান্ত হলে নূন্যতম 10 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ।

 ৭) শ্রমিক স্বার্থবিরোধী শ্রম কোড প্রত্যাহার করতে হবে। স্কীম ওয়ার্কারদের শ্রমিক হিসেবে গণ্য করতে হবে ।

 ৮) ICDS, NHM,MDMSকেন্দ্রীয় স্কীমগুলির জন্য বাজেটে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ রাখতে হবে। উন্নতমানের অতিরিক্ত রেশন আইসিডিএস এবং এমডিএমএস কর্মীদের দিতে হবে। পরিযায়ী শ্রমিক দের ও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 

 ৯) 45 এবং 46 তম আই এল সি'র সুপারিশ মত স্কীম ওয়ার্কারদের স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং ন্যূনতম 21000 টাকা মাসিক বেতন ও 10000 টাকা পেনশন দিতে হবে । 

প্রত্যেক স্কীম ওয়ার্কার্সদের ই এস আই এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে । 

 ১০) প্রধানমন্ত্রী জীবন জ্যোতি বীমা যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সুরক্ষা বীমা যোজনা এবং অঙ্গনওয়াড়ি বীমা যোজনাকে সঠিক ভাবে কার্যকর করতে হবে। সমস্ত  স্কীম ওয়ার্কারদের এই বীমার আওতায় আনতে হবে। 

 ১১) গ্রীষ্মের ছুটি এবং পুজোর ছুটিতে মিড ডে মিল কর্মীদের বেতন দিতে হবে । এই প্রকল্পকে বেসরকারি  কন্ট্রাক্টরদের অধীনে আনা চলবে না। কেন্দ্রীয় কিচেন চালু করা যাবে না। 

 ১২) সমগ্র করোনাকালে প্রত্যেককে 10 কেজি খাদ্য-শস্য দিতে হবে ।

 মূল্য বৃদ্ধি রোধ করতে হবে । ট্যাক্স প্রদান করেন না এমন পরিবারকে আগামী ছয় মাস সাড়ে সাত হাজার টাকা করে দিতে হবে। প্রত্যেকের আয় ও কাজ নিশ্চিত করতে হবে। 

 ১৩) বুনিয়াদি ক্ষেত্রসমূহ যেমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা (হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্য সাব-সেন্টার) পুষ্টি( আইসিডিএস এবং এমডিএমএস) এবং শিক্ষাক্ষেত্রেকে বেসরকারিকরণ করা চলবে না ।

 ১৪) শিক্ষার অধিকার আইন এবং খাদ্যের অধিকার আইনের মতো সার্বজনীন স্বাস্থ্য পরিষেবার জন্য আইন প্রণয়ন করতে হবে। 

১৫) পরিষেবা খাতে অর্থ সংস্থানের জজন্য  ধনকুবেরদের কাছ থেকে কর আদায় করতে হবে । কেন্দ্রীয় ভিস্তা প্রকল্প সহ সমস্ত জনবিরোধী প্রকল্প বাতিল করো।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...