বিপন্ন বন্যপ্রাণীদের জন্য চিন্তিত হাওড়া জেলা পরিবেশ মঞ্চ,
গ্রামীন হাওড়ায় বুনো শূকরের উৎপাত দিনের পর দিন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে।
ধানের ক্ষেত, পানের বোরোজ কিংবা আনাজ ক্ষেত,কোন জায়গাই ক্ষতি করা থেকে ছাড় দিচ্ছেনা এই ফেরাল পিগ বা বুনো শুয়োর রা।
বুনো শুয়োরের অত্যাচারের ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই খাল কেটে কুমীর আনার মতোই ক্ষতিগ্রস্থ চাষীরা ডেকে আনছেন মেদিনীপুর, বাঁকুড়া বীরভূম সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শিকারীদের,
অর্থের বিনিময়ে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বরাত দিচ্ছেন বুনো শূকরকে মারার, দলবল নিয়ে রীতিমতো গাড়িতে করে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একাধিক এলাকায় ঢুকছে শিকারীর দল।
হয়তো ফাঁদ পেতে দু একটা শূকর ধরছে তারা, কিন্তু শূকর ধরার নামে শিকারীদের হাতে প্রাণ যাচ্ছে অন্যান্য প্রানী কাঠবিড়ালী, ভাম, নেউল, বনবেড়াল, বাঘরোলদের।
কদিন আগেই প্রচুর পরিমান কাঠবেড়ালির মৃতদেহ সমেত একটা বড় শিকারীর দলকে হাতনাতে ধরেছিল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের পাঁচলা ইউনিট।
এদিন হাওড়া জেলার আমতা ১ নং ব্লকের মুক্তিরচক এলাকার জলা জঙ্গল এলাকায় একদল শিকারীদের ঘুরে বেড়ানোর খবর আসে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের হেল্পলাইন নম্বরে।
ফোন আসার পরেই পরিবেশ মঞ্চের তরফে দ্রুত বনদফতর ও স্থানীয় চন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেওয়া হয়।
এলাকায় এক ঘন্টার মধ্যে চলে আসে পরিবেশ মঞ্চের আমতা ইউনিটের সদস্য প্রিয়া দাস, চলে আসেন আমতার গ্রিণ চেন মুভমেন্ট এর কর্ণধার প্রদীপ রঞ্জন রীত ও সর্পবন্ধু অনির্বাণ সেনাপতি। শুরু হয় খোঁজ।
দুপুর ৩টে নাগাদ পুলিশের গাড়ি ও বন দফতরের একটা দল এসে পৌঁছায়।
পরিবেশ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ শিকারীদের গাড়িটির খোঁজ পান স্থানীয় সূত্রে খোঁজ করে।
তিনজন লোকও সেই গাড়িতে ছিল, তাদের বনদফতরের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ও বনদফতরের কর্মীদের একটা দল এলাকার জঙ্গলে শিকারীদের খোঁজে বেরিয়ে পড়ে।
ইতিমধ্যে গ্রামবাসীদের মধ্যে বিষয়টা নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। চাষীরা এসে জানায় - বুনো শূকরের উৎপাত থেকে বাঁচতে তারাই ফোন করে শিকারীদের এই দলকে গ্রামে ডেকেছে শূকর শিকার করতে।
চাষের ক্ষতি রুখতে কেন বনদফতর শূকর ধরতে উদ্যোগী হচ্ছেন না - তা নিয়ে গ্রামবাসীরা সরব হন।
ঘিরে ধরেন বনকর্মী ও পরিবেশ কর্মীদের। অবশেষে চন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ আসরে নামেন। তাঁর উদ্যোগেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, পুলিশ ৩০ জনের পুরো শিকারর দলকে গ্রাম থেকে নিয়ে চলে আসেন ও ভাল করে বুঝিয়ে ছেড়ে দেন।
পরিবেশ মঞ্চের তরফে শূকর সমস্যা সমাধান করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও বনদফতরের কাছে আবেদন করা হয়।
শূকরের উৎপাত কমলে আর হয়তো এভাবে শিকারীদের ওপেন একসেস দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারবেন চাষিরা - আর তাতেই শিকারীদের হাতে গ্রাম হাওড়ার বিপন্ন বন্যপ্রাণিগুলোর নির্বিচারে মৃত্যুর ঘটনাও কম হবে বলে মনে করেন হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ।




