বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের দুপুরে পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার জন্য কেন্দ্র-রাজ্য উভয় সরকারের যৌথ উদ্যোগে মিড ডে মিল প্রকল্প চালু হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রচণ্ড আগুনের গরমে খাবার রান্না করা, পরিবেশন করা ও খাওয়ানো শেষ হলে বাসন ধোয়া সহ সকল কাজই মিড ডে মিল কর্মীদের করতে হয়। এত হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে তারা ক্ষুধার্ত থাকলেও সেখান থেকে খাবার খাওয়ার কোন আইন সঙ্গত অধিকার তাদের নেই।
এত পরিশ্রম করে মিড-ডে-মিল কর্মীরা মাসে মাত্র ১৫০০টাকা পায়। এই টাকা পায় বছরে ১২ মাস নয় মাত্র ১০ মাসের । মিড ডে মিল কর্মীদের কোন প্রকার সামাজিক সুরক্ষা, পিএফ, পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা দেওয়া হয় না। 'সারা বাংলা মিড ডে মিল কর্মী ইউনিয়ন' এর পক্ষ থেকে বহুবার কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে মিড ডে মিল কর্মীদের দূরাবস্থার কথা জানানো হয়েছে। কোন ফল হয়নি। এই কর্মীরা সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসা মহিলা। বেশিরভাগ পরিবারের পুরুষ সদস্যরা পরিযায়ী শ্রমিক। করোনা পরিস্থিতিতে আজ তারাও কর্মহীন। আজ মিড ডে মিল কর্মীদের বহু পরিবার অর্ধাহারে দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে ।
এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে সারাবাংলা মিড-ডে-মিল কর্মী ইউনিয়ন এর পক্ষ থেকে রাজ্য জুড়ে ৬-১২ই সেপ্টেম্বর দাবি দিবস পালনের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে- ৫ই সেপ্টেম্বর বাগনান২ ব্লকের অন্তর্গত হাল্যোন অঞ্চলের রায়নগরে একটি সভা হয়।
এই সভায় বক্তব্য রাখেন- গ্রামীণ হাওড়া জেলা মিড ডে মিল ইউনিয়নের সংগঠক পম্পা সরকার। এছাড়া আগামী ১০ই সেপ্টেম্বর উলুবেড়িয়া মহাকুমা অভিযানে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- শ্রমিক সংগঠন এ আই ইউ টি ইউ সি হাওড়া জেলা সংগঠক নিখিল বেরা।
কর্মীদের মধ্যে সরকারের বঞ্চনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা যায় এবং আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে।




