মালদা,
বয়স মাত্র 50 । তাতেই যেন অথর্ব হয়ে পড়েছে মালদা শহরের নেতাজি পৌর বাজারের মাছ, পান ও কলার বাজার। সেই বাজারের মাথার উপর থেকে চাঙড় ভেঙে পড়ছে। ক'দিন আগে মাথায় চাঙড় ভেঙে পড়ে আহতও হয়েছেন একজন। বাজার সংস্কারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ইংরেজবাজার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের অভিযোগ, সেই আবেদনে হেলদোল নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। এতে চরম সমস্যায় পড়েছেন ওই বাজারের প্রায় ১৪০০ ব্যবসায়ী।
ইংরেজবাজার পৌরসভার অধীনে মালদার নেতাজি মার্কেট আবার অনেকে বিচিত্রা মার্কেট বলেও চেনেন । এই মার্কেটের পান ,কলা ও মাছের আরৎ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে । বিল্ডিং এর ছাদের চাঙর পড়ে যাচ্ছে ,লোহার রড দেখা দিয়েছে। বর্ষার সময় ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ে। জল মাথায় করে ক্রেতা-বিক্রেতারা কাজ করে যাচ্ছেন। বহুবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোনও কাজ হয়নি।
মালদা মার্চেন্ট চেম্বার কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু জানান মালদা জেলার সব থেকে বড় মার্কেট হচ্ছে এই নেতাজি মার্কেট । এক সময় যখন ইংরেজবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী ছিলেন তখন তিনি চেষ্টা করেছিলেন পিপিপি মডেল একটি মার্কেট করার । কিন্তু সেটাও আজকে দশ বছর হয়ে গেল কোনও কাজ হয়নি। আমরা বহুবার জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসককে এই বিষয়ে বলেছি, তবে তাতে কোনও কাজ হয়নি।
গত তিনদিন আগেও এই মার্কেটের এক ব্যবসায়ীর গুরুতর আহত হন তার মাথার উপরে চাঙর ভেঙে পড়েছিল। আমরা এসডিও সাহেবের কাছেও বিষয়টি নজরে নিয়ে এসেছি।
বাজারের এক ব্যবসায়ীর সত্যনারায়ন চৌরাসিয়া জানান একটু বৃষ্টি হলেই এলাকায় বাজারে হাটুজল জমে যায় । প্রায় এক হাঁটু জলেই আমাদের দোকানদারি করতে হয় । বেশ কিছুদিন আগেও উপর থেকে চাঙর খসে আমার কোমরে পড়ে যায়। আমরা অবিলম্বে এর সংস্কারের দাবি জানাই।
ইংরেজবাজার পৌরসভার প্রকাশক তথা এসডিও সুরেশচন্দ্র রানো সমস্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। আমরা বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ করবো । তবে ওই বাজার থেকে সাময়িকভাবে ব্যবসায়ীদের সরে যেতে হবে। যতদিন না আমরা সংস্কারের কাজ শেষ করতে পারছি ততদিন তাদেরকে সেখান থেকে উঠে গিয়ে রেগুলেটেড মার্কেট ব্যবসা করতে হবে । যদি তারা আমাদের এই সুযোগ দেন তাহলেই আমরা খুব শীঘ্রই কাজ করতে শুরু করে দিব।
এই বিষয়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা ইংরেজবাজার পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী জানান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা তথা মন্ত্রী এ বি এ গনি খান চৌধুরীর সময় নেতাজি মার্কেটটি তৈরি হয়েছিল। 1970- 71 সালে এই মার্কেটটি সম্পূর্ণভাবে তৈরি হয়। আমি চেয়ারম্যান থাকার সময় এই বিল্ডিংটির সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলাম। কোনও কারণবশত সেটি আর হয়নি। তবে বিল্ডিংটির পরিস্থিতি খুবই খারাপ যে কোন মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

