এই সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি সূচনায় আজ ৯ই আগস্ট ভারত ছাড়ো আন্দোলনের আশিতম দিবসে এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) বাগনান লোকাল কমিটির পক্ষ থেকে বাগনান বাসস্ট্যান্ডে এক সভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে স্বাধীনতা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে শহীদ বেদীতে মাল্যদানের মাধ্যমে সভার কাজ শুরু হয়।
এই সভায় বক্তব্য রাখেন এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) হাওড়া গ্রামীণ জেলা কমিটির সম্পাদিকা মিনতি সরকার। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সদস্য নিখিল বেরা ও বাগনান লোকাল কমিটির সদস্য সীমন্ত ধাড়া।
মিনতি সরকার তার বক্তব্যে বলেন- ভারত ছাড়ো আন্দোলন সহ গোটা স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়েছে প্রাণ দিয়েছে এদেশের ছাত্র যুবরা। তাদের স্বপ্ন ছিল দেশের মানুষকে সর্বপ্রকার শোষণ থেকে মুক্ত করার কিন্তু তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি।
স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ দিয়েছে ক্ষুদিরাম ভগৎ সিং প্রীতিলতা বিনয়-বাদল-দীনেশ মাস্টারদা সূর্য সেন প্রমুখ বিপ্লবীরা । দেশবন্ধু বিপিনচন্দ্র পাল, বালগঙ্গাধর তিলক, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জিত হলেও তা সম্পূর্ণ করায়ত্ত করল এদেশের শিল্পপতিরা। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের জায়গায় ভারতীয় পুঁজিপতিরা ক্ষমতা করায়ত্ত করল। ফলে গণমুক্তি আসেনি তাই এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) দল স্বাধীনতা দিবসকে উৎসব হিসেবে পালন না করে গণমুক্তি সংকল্প দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।
তিনি আরো বলেন যে বিজেপির রাজনৈতিক পরামর্শদাতা আরএসএস যারা আগস্ট আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনকে প্রতিক্রিয়াশীল আখ্যা দিয়েছিল তার আজকে ধুমধাম করে স্বাধীনতা দিবস পালন করবে- এটা অত্যন্ত দুঃখের। তিনি আরো বলেন তৎকালীন অবিভক্ত সিপিআই আগস্ট আন্দোলনের বিরোধিতা করে যদি সহযোগিতা করে বামপন্থাকে কলঙ্কিত করেছিল।
এমনকি নেতাজিকে তোজোর কুকুর ফ্যাসিবাদের দালাল দেশদ্রোহী বিশ্বাসঘাতক বলেছিল যা ক্ষমাহীন অপরাধের শামিল। এদের এই সমস্ত ভূমিকা দেখেই শিবদাস ঘোষ সর্বহারা শ্রেণীর একমাত্র দল এসইউসিআই (কমিউনিস্ট) গড়ে তুলেছিলেন । তিনি এও বলেন স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর দেশের মানুষকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে এ মেনে নেওয়া যায়না।
পরিশেষে তিনি বলেন কংগ্রেস দেশে ফ্যাসিবাদের ভিত্তি স্থাপন করেছে বিজেপি তাকে আরো মজবুত করেছে। একদিকে চলছে মেহনতী চাষীদের উপর অর্থনৈতিক আক্রমণ অপরদিকে যতটুকু সামান্য গণতন্ত্র গণতান্ত্রিক অধিকার, ব্যক্তি স্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা যা কিছু ছিল তা আজ সবই কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান তিনি জানান। এরপর সভার কাজ শেষ হয়।







