মালদাঃ-
'৭৬' এই দু'টি সংখ্যা মনে করিয়ে দেই ইতিহাসের সেই পুরোনো ২৫০ বছর আগের কালো অধ্যায়। মানুষের জীবন দুর্দশার কথা,মানুষের অভাব অনটনের কথা তথা ছিয়াত্তর মন্বন্তরের কথা।
এরই প্রেক্ষাপটে প্রায় মাস খানেক ধরে সাদা কালো দৃশ্যে গ্রাম বাংলায় শুটিং হয়ে গেল এক ঐতিহাসিক সিনেমা 'ছিয়াত্তর'।এই সিনেমাটিকে বিদেশে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হবে বলে জানান পরিচালক শঙ্খ ভট্টাচার্য। মালদা জেলার বিভিন্ন গ্রাম গঞ্জের দৃশ্য এই সিনেমাই দেখানো হয়েছে।
এই সিনেমাটিতে দেখানো হয়েছে 'মানুষ মানুষের জন্য'।মানব সেবাই সব থেকে বড় ধর্ম।অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন দুর্ভিক্ষের চরম দুর্দশার কথা।এই সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন অশোক কুমার ও মামনি গুপ্তা।অশোকবাবু এক উচ্চ জাতির ব্রাহ্মণ পন্ডিত জয়দেব মুখোপাধ্যায়ের ভুমিকায় রয়েছেন ও মামনি গুপ্তাকে নিম্ন জাতির মেয়ে লক্ষ্মী বাগদি'র ভূমিকায় দেখানো হয়েছে।
কাঁধে পুঁটলি ও হাতে লাঠি নিয়ে জঙ্গল দিয়ে চলে যাচ্ছেন এক ব্রাহ্মণ পন্ডিত জয়দেব মুখোপাধ্যায়। তিনি হটাৎ দেখতে পান গাছের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক নিম্ন জাতির গর্ভবতী মেয়ে লক্ষ্মী বাগদিকে। রাস্তায় চলতে গিয়ে হটাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন লক্ষ্মী এবং ব্রাহ্মণ পন্ডিত তাকে তুলতে গেলে লক্ষ্মী জানাই সে ছোটো জাতের মেয়ে তাকে ছুঁলে তার জাত যাবে। ব্রাহ্মণ পন্ডিত জয়দেব মুখোপাধ্যায় জাত চলে যাওয়ার ভয়কে উপেক্ষা করে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতিহাসে উল্লেখ আছে,১৭৭০ সালে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছিল। সময়টি বাংলা ১১৭৬ সাল হওয়ায় এই দুর্ভিক্ষ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত হয়। অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় সমগ্র দেশজুড়ে চরম অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। ত্রুটিপূর্ণ ভূমিরাজস্ব ব্যবস্থা ও খাদ্যবাজারে দালাল ফড়িয়া শ্রেনীর দৌরাত্ম্যের ফলে অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়ে। গ্রাম বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের খাদ্যের অভাবে পথে ঘাটে মারা যায়।
পরিচালক শঙ্খ ঘোষ জানান এটি একটি শর্ট ফিল্ম।ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের প্রেক্ষাপটে শুটিং করা হয়েছে। জাতপাতের উর্ধ্বে মানব সেবাই সব থেকে বড় ধর্ম দেখানো হয়েছে। নভেম্বর মাসে বিদেশে ইউক্রেন,আমেরিকার ও ইউরোপে শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাঠানো হবে।শুধু সময়ের অপেক্ষা।

