খড়দহ, আমতা, হাওড়া
হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও তার সাথী সংগঠন খড়দহ নিউ এজ সোসাইটি নিরন্তর প্রচারে ছোটদের মধ্যে জেগে উঠছে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের চেতনা। এর সুফল মিলল এদিন হাওড়া জেলার আমতা থানার খড়দহ গ্রামে। খড়দহ হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আয়ুস সাঁতরা এদিন সকালে পরিবেশ কর্মী সায়ন দে-র বাড়িতে ছুটে আসে ও খবর দেয় তার বাড়ির সামনে বড় পুকুরে টাঙানো জালের ফাঁদে গলা আটকে গিয়ে ছটফট করছে একটা বাচ্চা গোসাপ।
সায়ন দে দ্রুত স্থানে পৌঁছে পরিস্থিতি দেখে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের মাধ্যমে খবর দেন বনদফতরে। বনদফতরের আধিকারিকরা এসে জালমুক্ত করলে গোসাপটি মনের আনন্দে পুকুরে চলে যায়। প্রাণে বাঁচে। কিন্তু এই ঘটনা আবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল পুকুরে জাল দেওয়ার বিষয়টাকে। এটা কি সমস্যা? বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পথে বাধা?
পরিবেশ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ জানান - আমরা বারবার মাছচাষী ভাইদের অনুরোধ করছি এমন ব্যবস্থা করতে যাতে মাছ চাষের ক্ষতি না হয় আর মাছরাঙা, বক, গোসাপ, সাপ, পেঁচা - ইত্যাদি বিপন্ন বন্যপ্রাণীও জালে না আটকে প্রাণ যায়।
এই পুকুরের মাছচাষী তুলসীবেড়িয়া গ্রামের ঝনু মণ্ডল পুকুরের জাল খুলে দেবেন বলে জানালেন, তার বক্তব্য - জাল না টাঙালে মাছরাঙা বক পানকৌড়ি তে প্রচুর মাছ খেয়ে চাষের ক্ষতি করে। তাই বাধ্য হয়েই আমাদের এই ব্যবস্থা নিতে হয়। আমরাও চাইনা ওরা মারা যাক। কিন্তু জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে এই রাস্তা আমাদের নিতে হয়।
বনদফতরের আধিকারিকরা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন - জালে বন্যপ্রাণী আটকে আহত বা নিহত হলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন। দরকার হলে জাল বাজেয়াপ্ত করতেও হতে পারে।
হাওড়া গ্রামীণ এলাকার প্রায় সর্বত্র পুকুরে জাল খাঁটানোর ছবি দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গাতেই মাছরাঙা বক পেঁচা গোসাপ আটকে পড়ছে প্রাণেও মারা যাচ্ছে। পরিবেশকর্মী দের তৎপরতায় কিছু প্রাণি উদ্ধার হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মৃতদেহ বা কঙ্কাল ঝুলতে। এই ছবি বদলাবে কিভাবে, কিভাবে মাছচাষীদের চাষের ক্ষতি সামলে বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ করা যাবে তার রাস্তা খুলতে প্রশাসনকে ও বিশেষ করে বায়ো ডাইভার্সিটি বোর্ড কে এগিয়ে আসতে হবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
এই সমস্যার কিভাবে সমাধান হয় সেটাই এখন দেখার।
যাইহোক বিপন্ন গোসাপ (The Bengal monitor (Varanus bengalensis) বা Indian monitor ১৯৭২ সালের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুসারে সিডিউল ১ তালিকাভুক্ত - প্রাণীটিকে বাঁচানোর জন্য সপ্তম শ্রেণির ছাত্র আয়ুস কে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও খড়দহ নিউ এজ সোসাইটির তরফে সম্বর্ধিত করা হবে বলে জানান সংস্থার সদস্য - সায়ন দে।





