নজরদারী চলছিল গোপনেই। এদিন সকালে বাজার করতে এসে মাছ বিক্রির জায়গাতেই খোলামেলা একজন মহিলা খালে ধরা মাছের সঙ্গে দুটি পূর্ণাঙ্গ তিল কাছিম বিক্রি হতে দেখেন স্থানীয় গোবিন্দচক গ্রামের বাসিন্দা পেশায় শিক্ষক দেবাশীষ হাজরা। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেন হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের হেল্পলাইনে। খবর চলে যায় বনদফতরে।
গরীব মাছ বিক্রেতা ওই মহিলাটির থেকে কচ্ছপ দুটি নিতে গেলে মহিলাটি হাতে পায়ে ধরে শিক্ষকের। লকডাউনে আর্থিক অবস্থা একেবারে শোচনীয় হয়ে পড়েছে বলে জানান। এও বলেন যে এই কটা মাছ ও কচ্ছপ দুটি বিক্রি করে দুপয়সা পেলে তবেই এক দিন খেতে পারবেন।
মানবিকতার খাতিরে কিছু টাক অর্থ সাহায্য করেন দেবাশীষবাবু এবং কচ্ছপ বিক্রি অপরাধ বলে জানিয়ে ও আর যাতে বিক্রি না করে এটা বলে কচ্ছপ দুটি নিয়ে চলে আসেন বাড়িতে।
বিকেলে বনদফতরের কর্মীদের হাতে তুলে দেন দেবাশীষ বাবু তার নিজের ছোট মেয়ের হাত দিয়ে। দেবাশীষবাবু নিজের মেয়েকে এই কাজে সামিল করার মাধ্যমে ছোটদের পরিবেশ চেতনা জাগরণের বার্তাও দিলেন।
ভারতীয় বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আইন অনুসারে কচ্ছপ ধরা, বিক্রি করা, পোষা, মারা ও রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। এর জন্য হতে পারে জেল ও জরিমানা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বনবিভাগের জারি করা ট্যাগ লাইন *হাত দিলেই হাজতে* সম্বলিত প্রচারপত্র নিয়ে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের তরফে বারবার প্রচার চালানো হচ্ছে ও প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। তবুও টনক নড়ছেনা কিছু মানুষের। তাই এবার আর কোনোভাবেই বিষয়টাকে হালকা ভাবে নেওয়া যাবে না বলে জানান পরিবেশ মঞ্চের সম্পাদক শুভ্রদীপ ঘোষ। ঠিক হয়েছে পরিবেশ মঞ্চের আমতার সক্রিয় সাথী সংগঠন হাওড়া মঙ্গলদীপ শিশুকল্যান সমিতির *গ্রিণচেন মুভমেন্ট* এর তরফে তুলসীবেড়িয়া বাজার কমিটির সঙ্গে ওই বাজারে কচ্ছপ বিক্রি নিষিদ্ধকরণের দাবী নিয়ে পরিবেশপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীদের গনস্বাক্ষর সম্বলিত প্রতিবাদ পত্র তুলে দেওয়া হবে আগামী কাল সকালে। উপস্থিত থাকবেন হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সদস্যরাও।
বাজার কমিটি যদি এরপর সতর্ক না হয় এবং তাদের চোখের নাগালেই আবার কচ্ছপ বিক্রি হয় ওই বাজারে তাহলে বড়সড় আন্দোলন ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে পরিবেশকরমীরা। এবার দেখার এলাকার মানুষ ও বাজার কমিটির শুভবুদ্ধির উদয় হয় কিনা।


