রাজকুমারের সমাজসেবার স্বপ্নডানা—



‌‌পেশায় ক্রীড়া সাংবাদিক হলেও নেশা সমাজসেবা। ছোটোবেলা থেকেই একই নেশায় বুঁদ। মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদগ্রীব ক্রীড়া সাংবাদিক রাজকুমার মণ্ডল। ভালোবাসার মানুষজন সম্মোধন করেন হরেক ডাকনামে-‌


প্রিন্স,রাজ,মহারাজ,বাপি,মানা,রাজেশ। রাজের আদর্শ স্বামী বিবেকানন্দ। সময় পেলেই বিবেকানন্দের বই পড়া ও তাঁর বানী মেনে চলার প্রয়াসে ব্রতী। কলেজ জীবনে নিজের টিউশনের জমানো টাকা খরচা করেন অপরিচিত দুই মেয়ের বিয়েতে।



 দু:‌স্থ ছাত্রদের নিখরচায় পড়ানো,বই কিনে দেওয়া থেকে শুরু করে অনেক সময় পূজোয় নতুন পোষাক কিনে দিতে দেখা গেছে রাজকুমারকে। হাওড়ার বাসিন্দা হলেও রাজ্যজুড়ে বাড়িয়ে দেন সমাজসেবার হাত। 



জীবনে চলার পথ সততার আবরনে মুড়ে রাখতে অভ্যস্থ রাজকুমার কথাবার্তায় চাঁচাছোলা স্পষ্টভাষী। কাউকে পরোয়া করতে ভালোবাসেন না। রাজনীতি বরাবরই অপছন্দের। নিজের টাকায় ফুটপাতবাসীদের খাবার কিনে দেওয়া,জামাকাপড় কিনে দেওয়ার মতো কাজে নিজেকে ব্যাস্ত রাখতে পছন্দ। একক প্রচেষ্টায় সমাজসেবা দেখে অনেকেই যুক্ত হন রাজের সঙ্গে। একক প্রচেষ্টায় ২০১৫ এ জয়দীপ করুলী নামে এক ক্যান্সারাক্রান্ত শিশু চিকিৎসার জন্য তুলে দেন ২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন মহলে চিঠিচাপাটি করে প্রায় সাড়ে ৬লক্ষ টাকার চিকিৎসার বন্দ্যোবস্থ করেন জয়দীপের পরিবারকে। সারাদিন অজস্র মানুষের ফোনে এতটুকু বিরক্ত নন রাজ। একের পর এক মানুষের প্রয়োজনে হসপিটালে ভর্তি,মেয়ের বিয়ে,চাকরির সংস্থান থেকে শুরু করে হরেক আব্দার। শহরের প্রতিটি অনাথ আশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রমে ভালোবাসার পাত্র এই ক্রীড়াসাংবাদিক। হাওড়া ও কলকাতার অধিকাংশ বস্তি ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষজন ভালোবাসেন ও হাওড়ার রবিনহুড বলেও ডাকেন রাজকুমারকে। সংগঠন তৈরী করার পক্ষপাতী নন রাজকুমার। তবুও সকলের জোরাজুরিতে ইচ্ছে না থাকলেও রাজী হলেন অবশেষে। ১২ জানুয়ারী, ২০১৬ এ তৈরী হয় ‘‌ড্রিম উইংস’ বাংলায় স্বপ্নডানা‌। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘‌ড্রিম উইংস’  সরকারী স্বীকৃতিলাভ করে। এরপর একে একে অনেকেই সমাজসেবায় নিয়োজিত করতে শুরু করলেন। কলকাতা,হাওড়া,উলুবেড়িয়া,বাগনান সহ বিভিন্ন জায়গায় বিনামুল্যে স্বাস্থ্য শিবির,ওষুধ প্রদান,খাবার বিতরন সহ সবরকম সমাজসেবার কাজে ব্রতী এই সংস্থা। 



প্রতি বন্যায় খাদ্যসামগ্রী,ওষুধ,ত্রিপল,জামাকাপড় বোঝাই করে দুর্গত মানুষের পাশে ‘‌ড্রিম উইংস’পৌঁছে গেছে। বাইনান,উদয়নারায়নপুর,আমতা,ভবানীপুর,জয়পুর,ঝিখিড়া সহ নানান স্থানে বন্যাদুর্গতদের জন্য দৌড়ে গেছে প্রিন্সের দল। ২০০০ সালে বিখ্যাত নাট্যকার ও চলচিত্রশিল্পী চন্দন সেনের ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য তুলে দেওয়া হয় ২ লক্ষ টাকা। করোনার ভয়াল প্রথম ঢেউ ঘরে আটকে রাখতে পারেনি রাজকুমারকে। নিজে বাইকে করে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন খাবার,ওষুধ। ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন পরিচিতজনের। বেশকিছু চিত্রসাংবাদিকের আবেদনেও অদূরে নিজে গিয়ে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী। চিকিৎসাকেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে মানুষের প্রয়োজনে সহায়তা করেছেন। 



প্রয়োজনে করোনা রোগীকে নিজে বেডে শুয়ে রক্ত দিয়ে এসেছেন রাজ। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সমানভাবে প্রস্তুতি নিয়ে নিজেকে সকালের লম্বা শরীর চর্চায় সুস্থ্য রেখে কাজ করে চলেছেন মানুষের জন্য। কমিউনিটে কিচেনের আয়োজন থেকে করোনা রোগীকে খাবার ও ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার কাজ। পথবাসীদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কাজ। দিবারাত্র অজস্র মানুষের প্রয়োজনের ফোন,তবুও এতটুকু ক্লান্তি নেই রাজকুমারের।  



AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...