বিশেষ সংবাদদাতা, শ্যামপুর,
বর্তমান প্রজন্মের প্রায় প্রত্যেকের কাছেই রয়েছে একটি করে স্মার্টফোন।আর স্মার্টফোন মানেই তো সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও সোস্যাল মিডিয়ায় বলতে মূলত আমরা ফেসবুকেই বুঝি। যার জন্ম 2004 সালে হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মার্ক জুকেরবার্গ এর হাত ধরে।
এবার সেই ফেসবুকের দৌলতেই মা-বাবার কাছে ফিরল মূক ও বধির ফিরদৌস।গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কমলপুর ফুটবল মাঠ সংলগ্ন R.B.T ক্লাবের সামনে ১২-১৩ বছরের একটি অচেনা ছেলেকে ঘুড়ে বেড়াতে দেখা যায়।স্থানীয়রা ছেলেটিকে নাম,ঠিকানা জিজ্ঞাসা করার পর জানতে পারেন ছেলেটি কথা বলতে অক্ষম। এর পর স্থানীরা দুই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'আমাদের দিনকাল' ও 'হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের' সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করেন। কিছুক্ষনের মধ্যেই দুই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হন। এবং কোন উপায় না পেয়ে ছেলেটির পরিচয় জানতে চেয়ে ছেলেটিকে সামনে রেখে বিভিন্ন গ্রূপে ফেসবুকে লাইভ ভিডিও আপলোড করেন দুই সংস্থার শুভাকাঙ্ক্ষী সংগীতা গিরি মহাশয়া। এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।এরপরও বাড়ির খোঁজ না মেলায় সংগঠনের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ফিরদৌসকে স্থানীয় শ্যামপুর থানায় নিয়ে যাওয়া হবে। যদিও থানায় পৌঁছানোর আগেই ফিরদৌসের পরিবারের পক্ষ থেকে শ্যামপুর থানার পুলিশ আধিকারিকদের সাথে যোগাযোগ করা হয়। থানায় পৌঁছনোর পর পুলিশ আধিকারিকদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সদস্যদের জানানো হয় ছেলেটির নাম 'ফিরদৌস'।
বাড়ি 'শ্যামপুর থানার অন্তর্গত শশাটি অঞ্চলের মোহনপুর গ্রামে'।ফিরদৌস কথা বলতে পারে না এবং মানসিক ভাবে অসুস্থ এবং বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ। তাঁর পরিবারের সদস্যরা ফেসবুকে তাঁর ভিডিওটি দেখে থানায় যোগাযোগ করেন এবং তাঁকে নিতে থানায় আসছে।এরপর কিছুক্ষনের মধ্যে ফিরদৌসের বাড়ির লোকজন থানায় পৌঁছালে পুলিশ আধিকারিকদের সামনে ফিরদৌসকে তার বাবার হাতে তুলে দেন দুই সংগঠনের সদস্যরা। ফিরদৌসের বাবা সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে অত্যন্ত খুশি এবং সংগঠনের সদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এপ্রসঙ্গে আমাদের দিনকাল গ্রূপের অন্যতম সদস্য প্রশান্ত সাঁতরা জানান " ফিরদৌস কে আমরা সুস্থ্য ভাবে বাড়ি পৌঁছে দিতে পারলাম এটা অনেক আনন্দের খবর তাঁর জন্য ফেসবুককে জানাই অসংখ্য ধন্যবাদ"।


