মালদা,
ভিন রাজ্যে কাজ করে পয়সা জমিয়ে শখ করে মোবাইল কিনেছিল। পরিশ্রমের টাকায় কেনা মোবাইল শুক্রবার ভর সন্ধ্যাবেলা পাড়ার রাস্তা থেকেই তা ছিনতাই করে নিয়ে পালালো দুষ্কৃতীরা। মোটরসাইকেল চড়ে এসেছিল দুই দুষ্কৃতী। ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার হাইস্কুল পাড়ার রাস্তায়। ঘটনার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাতে।
এই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানাতে। তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
হরিশ্চন্দ্রপুর হাই স্কুল পাড়ার বাসিন্দা পরিযায়ী শ্রমিক করণ পাশওয়ান। দীর্ঘদিন ধরে রাজস্থানে হোটেলে কাজ করতো। লকডাউনের পর বাড়ি ফিরে এসেছিল। সেখান থেকেই কাজ করে পাওয়া টাকা জমিয়ে কিনেছিল দামি মোবাইল। সেই মোবাইল নিয়ে সন্ধ্যাবেলা বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের ব্যাপার, ভর সন্ধ্যাবেলা বাড়ি থেকে কিছু দূরেই হরিশচন্দ্রপুর হাই স্কুল রোড এলাকায় হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালালো মোটরসাইকেলে চড়ে আসা দুই দুষ্কৃতী।
ছিনতাইয়ের ঘটনা ওই রাস্তার পাশে থাকা একটি বিড়ি ফ্যাক্টরির অফিসের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। পরিশ্রমে কষ্টের টাকায় কেনা মোবাইলটি খওয়া যাওয়ায় হতাশ পরিযায়ী শ্রমিক করণ পাশওয়ান।
এ প্রসঙ্গে তিনি জানিয়েছেন প্রতিদিনের মতোই সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে কিছুক্ষণের জন্য হাঁটতে বেরিয়ে ছিলেন। হাতে মোবাইল ছিল। খানিকটা অন্যমনস্ক হয়ে মোবাইলের দিকে চোখ রেখেছিলেন হাঁটতে হাঁটতে। এমন সময় মোটরসাইকেলের চলে এসে দুজন আমার হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেল থাকায় আমি ওদের ধরতে পারিনি। তাছাড়া কিছুটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। আমি ওদের চিনি না। আমি এ বিষয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ভগবান পাসমান জানালেন এভাবে ভর সন্ধ্যাবেলায় লোকালয় থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা খুবই উদ্বেগজনক। আমরা চাই এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন আরো সজাগ হোক। আমরা সাধারন মানুষ এই ঘটনার পরে আতঙ্কে রয়েছি। এলাকায় আরও নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি।
ভর সন্ধ্যাবেলা এই ধরণের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। প্রশ্ন তুলে দিয়েছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার উপর। বাড়ির সামনে থেকে হাত থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে চলে গেলে মানুষের জীবন কোথায় নিরাপদ? প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ।

