দুই ভাই
ক্রিকেটার তৈরীর কারিগর শুক্লা ভাতৃদ্বয়। বিশ্বক্রিকেটে ক্রিকেটার ভাতৃদ্বয়ের কথা অজানা নয়। অষ্ট্রেলিয়ার স্টিভ ও মার্ক ওয়াঘ, মাইকেল ও ডেভিড হাসি, নিউজিল্যান্ডের ব্র্যান্ডন ও নাথান ম্যাককুলাম, জিম্বাবোয়ের অ্যান্ডি ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার, দ: আফ্রিকার অ্যালবি ও মর্ন মরকেল, ভারতের ইরফান ও ইউসুফ পাঠান, হার্দিক ও ক্রুনাল পান্ডিয়া। তবে, দুই ভাই ক্রিকেটার গড়ার কারখানা গড়েছেন সম্পূর্ন নিজেদের উদ্যোগে, এক্কেবারে নজিরবিহীন।
দু-দুটো অ্যাকাডেমি মিলিয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১১০০ র বেশী। উপরন্তু ক্রিকেট শেখানো হয় সম্পূর্ন নিখরচায়। ইতিমধ্যেই বাংলা দলে বেশ কয়েকজন মহিলা ক্রিকেটার সাপ্লাই দিয়েছে এল আর এস ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। আগামী বাংলা দলের ক্রিকেটার সাপ্লাইলাইন বললে ভুল হবে না। উদ্যোগী লক্ষীরতন শুক্লা ও প্রকাশ শুক্লা। লক্ষীরতন জাতীয় দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও প্রকাশ প্রাথমীক ক্রিকেটে সুপরিচিত। সকাল থেকে সন্ধ্যা শুক্লা ভাতৃদ্বয়ের উদ্যম দেখে হতবাক ক্রিকেট মহল। স্থানীয়দের মনে ক্রিকেটের উন্মাদনা বৃদ্ধি করতে আয়োজন করেছেন পাড়া ক্রিকেটের। লক্ষীরতন শুক্লার একক প্রচেষ্টায় তৈরী নিজের অ্যাকাডেমির মাঠেই। ষোলো দলের লড়াইয়ে আকর্ষনীয় পুরস্কারের ছড়াছড়ি। জাতীয় স্তরের আম্পায়ার ও নিয়ম মেনে আই পি এল ধাঁচে রবিবাসরীয় ক্রিকেটীয় উন্মাদনা। রবিবার ফাইনালে চ্যাম্পিয়ান ইছাপুর সংঘমিত্র ও রানার্স বিবেকানন্দ অ্যাথলেটিক ক্লাব। সিরিজের সেরা ব্যাটসম্যান ধীমন ঘোষ এবং সেরা বোলার শানু পাত্র। শানু ফাইনালেও সেরা। রাজনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মাঠেই মজেছেন লক্ষীরতন। জেলা শীর্ষ নেতৃত্ব জেলাজুড়ে হোর্ডিংয়ে লক্ষীরতন শুক্লার নাম ছাপিয়ে প্রচার করলেও, রাজনীতি থেকে বেপাত্তা ক্যাপ্টেন। দিনভোর বড় দাদা প্রকাশ শুক্লাকে নিয়ে নিজের অ্যাকাডেমির মাঠেই অনুশীলনের পাঠ দিচ্ছেন খুদেদের। আজকাল ডট ইন এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে লক্ষীরতন শুক্লা জানালেন— ‘‘তৃনমূল স্তর থেকে ক্রিকেটার তৈরী করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে। প্রত্যেক ঘরে ঘরে ক্রিকেটার তৈরীর বার্তা প্রেরনের জন্যই পাড়া-ক্রিকেটের আয়োজন। প্রত্যেক মা-বাবা উৎসাহিত করবেন সন্তানদের ক্রিকেটার হতে। প্রকাশ দা ও বেশ কয়েকজন কোচ সহযোগে একেবারে হাতে ধরে ক্রিকেট শেখানোর চেষ্টা করছি, আশা করছি সফল হবোই।’’ পাশে দাঁড়িয়ে ভাইয়ের সুর মেলালেন প্রকাশ। তবে রাজনীতি প্রসঙ্গে নাক সিঁটকে জানালেন বেশ কয়েক মাইল পিছনে ফেলেছেন এই ভয়ঙ্কর শব্দটিকে। এখন চিন্তাভাবনায় আবার ফিরিয়ে এনেছি শুধুই ‘ক্রিকেট’। কান পাতলেই শোনা যায় ভাতৃদ্বয়ের ক্রিকেট কারখানার কথা। সুনিবিড় আস্থা অগনিত অভিভাবক ও ক্রিকেটমহলের।

