নিজস্বব সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া:
ঠিক সেই আঠারো। যে আঠারো নেমেছে রক্তের বন্ধনে। করোনা পরিস্থিতিতে ব্লাড ব্যাঙ্কের রক্তশূন্যতায় রক্তদান করতে এগিয়ে এলেন তরুণ। যা দেখে কবির কথাতেই বলতে হয়,
"এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য
বাষ্পের বেগে স্টিমারের মতো চলে,
প্রাণ দেওয়া-নেওয়া ঝুলিটা থাকে না শূন্য
সঁপে আত্মাকে শপথের কোলাহলে।"
লকক ডাউনের সময় থেকেই রক্তশূন্যতায় ভুগছিল ব্লাড ব্যাঙ্ক। রক্তদাতা ও রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠন ব্লাড ডোনর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপই মানুষের ভরসা এখনও। সেই গ্রুপের সদস্য তন্ময় মণ্ডল। রক্তদান শিবির চালু হওয়ার পর ব্লাড ডোনর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের উদ্যোগে রক্তদান শিবির সফল করতে ভূমিকা নিয়েছিল সে। জানিয়েছিল রক্তের প্রয়োজন হলে সেও ব্লাড ব্যাঙ্কে গিয়ে রক্তদান করবে। হাওড়ার প্রাতসীমা শ্যামপুরের গাদিয়াড়াতে বাড়ি একুশ বছরের তন্ময়ের। অনেকবার নিজে রক্তদান করতে চেয়েছিল। কিন্তু, প্রয়োজন হয়নি। বাগনানের স্বপন মাইতির রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়। বাগনানের মুগকল্যাণ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন স্বপন বাবুর জীবন বিপন্ন। উলুবেড়িয়া ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত অমিল।
পরিবার ব্লাড ডোনর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের সহযোগিতা চান। ব্লাড ডোনর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের আবেদনে সাড়া দিয়ে গতকাল রাতেই ফোন করে তন্ময় জানায় রক্তদান করবে। এর আগে তন্ময় রক্তদাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ঘটিয়েছিল। কিন্তু, প্রতিবারেই রক্তের ব্যবস্থা হয়ে যায়। ব্লাড ডোনর হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন শতাব্দী বেরা জানালেন, এবারেই প্রথম রক্তদান করলো আমাদের সহযোদ্ধা গ্রুপের সর্বকণিষ্ঠ সদস্য তন্ময়। তন্ময়রাই আমাদের ভরসা যোগায়। জানিয়ে দেয় মানবিকতা হারিয়ে যায় নি। মানবিকতার শিক্ষার পাঠে দিক্ষিত তন্ময়দের কথা ছড়িয়ে পড়ুক। আরও তন্ময় তৈরি হোক ঘরে ঘরে। রক্তযোদ্ধা তন্ময়কে কুর্নিশ জানাই।"
তন্ময়ের রক্তদানে জীবনদীপ রক্ষা হল বাগনানের স্বপন মাইতির।

