রবিবার পাত্রী পক্ষের কাছ থেকে যৌতুক হিসাবে ৫০ টি গাছের চারা নিয়ে বিয়ে করে সকলকে চমকে দিয়েছিলেন হাওড়ার বাগনান থানার হিজলক নিবাসী অনীশ মাজি। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে নববধূ সঙ্গীতাকে সঙ্গে নিয়ে সোজা বাগনান থানায় পৌঁছে গেলেন অনীশ। সদ্য বিবাহিত দম্পতিকে সাত সকালে থানায় আসতে দেখে প্রথমে চমকে উঠেছিলেন থানার আধিকারিকরা। তাঁদের মনে প্রশ্ন জেগেছিল নব দম্পতি সাতসকালে থানায় কেন? থানার জানালায় উঁকিঝুঁকি দিতে শুরু করছিলেন আশপাশের উৎসুক জনতাও। সবার মনেই এক প্রশ্ন, ব্যাপারটা কি? নব দম্পতি ডিউটি অফিসারের সামনে দাঁড়িয়ে হাতজোড় করে হাসিমুখে অভিবাদন জানান। ততক্ষণে দু' তিনজন পুলিশ আধিকারিক তাঁদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের মনেও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দুটো নতুন জীবনকে ঘিরে নতুন কোনও সমস্যা তৈরি হল কিনা। সকলকে অবাক করে দিয়ে অনীশ ডিউটি অফিসারকে জানান করোনা পরিস্থিতিতে একদম সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে পুলিশকর্মীরা যেভাবে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন তাতে তাঁরা সমস্ত পুলিশ কর্মীদের জন্য গৌরবান্বিত। তাই শুভ বিবাহের শুভক্ষণ অতিক্রম হবার আগেই তাঁরা সকল পুলিশকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে থানাতে এসেছেন। একইসঙ্গে তাঁদের নতুন জীবন যাতে সুখের হয় সেই জন্য করোনা যোদ্ধাদের কাছ থেকে আশীর্বাদ নিতে এসেছেন। এই কথা শোনার পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন উপস্থিত সকলে। পুলিশ কর্মী থেকে শুরু করে আশপাশের উৎসুক জনতা সকলের মুখেই হাসি ফোটে। পুলিশ কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ নব দম্পতি তাঁদের মিষ্টিমুখ করান। একই সঙ্গে তাঁদের সুস্থতা কামনায় তাঁদের হাতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার তুলে দেন অনীশ-সঙ্গীতা। পুলিশ আধিকারিকরা জানান এই ধরনের অভিজ্ঞতা তাঁদের আগে কখনও হয়নি। নববিবাহিত দম্পতি মন্দিরে গিয়ে ভগবানের আশীর্বাদ না নিয়ে থানায় এসেছেন পুলিশ আধিকারিকদের আশীর্বাদ নিতে এই দৃশ্য এর আগে কেউ কখনও দেখেছেন কিনা সন্দেহ রয়েছে। পেশায় ইঞ্জিনিয়ার অনীশ জানান পুলিশকর্মীরা তাঁর কাছে দেবতার সমান। তাই তিনি মন্দিরে না গিয়ে সস্ত্রীক থানায় এসেছেন সেই দেবতাদের আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য।
