নিজস্ব প্রতিবেদক, উলুবেড়িয়া,
সি পি আই (এম), হাওড়া জেলা কমিটির সম্পাদকমণ্ডলীর প্রাক্তন সদস্য কমরেড সুশীল দিন্দা আজ ১০ই জুলাই ২০২০, বেলা ২-৫০ মিনিটে নিজ বাসভবনে প্রয়াত হয়েছেন। তিনি শ্যামপুর থানা এলাকায় কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি কর্মজীবনে রাধাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ঐ সময়ে ঐতিহাসিক শিক্ষা আন্দোলনে যুক্ত হয়ে কমরেড সত্যপ্রিয় রায় ও অনিলা দেবীর সংস্পর্শে আসেন এবং এবিটিএ-র নেতৃত্ব দেন।
শিক্ষক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই পার্টির সংস্পর্শে আসেন এবং ১৯৬২ সালে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৪ সালে পার্টি বিভক্ত হলে সংশোধনবাদীদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি সি পি আই (এম)-এ যোগ দেন এবং হাওড়া জেলা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৪ সালে ৭ম পার্টি কংগ্রেসের তিনি প্রতিনিধি ছিলেন। কমরেড শ্যামাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য, মদন দাস, জয়কেশ মুখার্জি এঁদের নেতৃত্বে তিনি শ্যামপুর থানা এলাকায় কৃষক সংগঠন গড়ে তোলেন। ভাগচাষী ও ক্ষেতমজুর আন্দোলনে সুযোগ্য নেতৃত্ব দেন। ১৯৭৭ সালে বামফ্রন্ট সরকার গঠিত হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে ১ম ত্রিস্তরিয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্বাচিত হন এবং পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হিসাবে ১৫ বছর দায়িত্ব পালন করেন। সভাপতি থাকাকালীন তাঁর উদ্যোগে শ্যামপুর এলাকায় যে নিবিড় সামাজিক বনসৃজনের কাজ হয়েছিল তার চিহ্ন আজও বিরাজমান। শ্যামপুরে পার্টির লোকাল কমিটি গঠিত হলে তিনি দীর্ঘ দিন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। প্রথম পার্টির জোনাল কমিটি গঠিত হলে তিনি বাগনান-শ্যামপুর অবিভক্ত জোনাল কমিটির সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।
মিষ্টভাষী, স্বল্পবাক সুশীল দিন্দা ছিলেন আদর্শে দৃঢ় একজন দক্ষ সংগঠক। শ্যামপুরে অসংখ্য অনুরাগীকে তিনি পার্টিতে নিয়ে আসেন। গরীব কৃষক, ক্ষেতমজুর, ভাগচাষী, বর্গাচাষীর তিনি ছিলেন প্রকৃত বন্ধু। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। আমৃত্যু তিনি পার্টি সদস্য ছিলেন। তাঁর ২ পুত্র, ২ কন্যা ও নাতি, নাতনি বর্তমান। প্রবীণ পার্টি নেতা কমরেড সুশীল দিন্দার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন পার্টির হাওড়া জেলা কমিটির সম্পাদক কমরেড বিপ্লব মজুমদার।



