দীর্ঘ বিষন্নতার পর পর্যটকদের মনে আশার সঞ্চার করে খুলেই আবার বন্ধ হয়ে গেল দিঘা, শঙ্করপুর ও মন্দারমণির সমস্ত হোটেল। বর্ষার হাত ধরে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে চেয়েছিল সৈকত নগরী দিঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি। সেই লক্ষ্যে গত ৮ জুন মন্দারমনির অধিকাংশ হোটেল খুলে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার থেকে দিঘার ৩০ শতাংশ হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় শুক্রবার নিউ দিঘার বেশ কিছু জায়গায় এবং কয়েকটি হোটেলের সামনে স্থানীয় আরাধনা নারী কল্যাণ সমিতির মহিলারা বিক্ষোভ দেখান। পর্যটকদের আনাগোনায় করোনার গোষ্ঠী সংক্ৰমণ ঘটতে পারে, এই আশঙ্কায় তাঁরা পর্যটকদের ফিরে যেতে বলার পাশাপাশি হোটেল বন্ধ রাখার দাবিতে সোচ্চার হন। পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দিলেও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত হোটেল মালিকরা হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন। কয়েকদিন আগে মন্দারমণিতেও স্থানীয়রা হোটেল খোলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। এভাবে বারবার স্থানীয়দের বাধা ডিঙিয়ে হোটেল খোলা সম্ভব নয় বলে এই তিন পর্যটন কেন্দ্রের হোটেল মালিক সংগঠনগুলি শুক্রবার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা স্থানীয়দের প্রতিরোধের বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সুরক্ষা বিধি মানার পরেও হোটেল খোলার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধা দেওয়ার কোনও কারণ থাকতে পারে না। এই বিষয়ে তাঁরা খুব শিগগিরই হোটেল সংগঠনগুলিকে নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনায় বসে সিদ্ধান্ত নেবেন। দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন স্থানীয় মানুষের আপত্তির কারণে তাঁরা হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা আর হোটেল খোলার কথা ভাবছেন না। মন্দারমণি বিচ হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক দেবদুলাল দাসমহা পাত্রও একই কথা বলেন। তিনি বলেন সরকার মানুষের রোজগারের উপায় বের করতে হোটেল খোলার নির্দেশ দিয়েছিল। সেখানে মানুষই বাধা সৃষ্টি করছে। এর সমাধনের পথ প্রশাসনকেই খুঁজতে হবে। ১৫ জুনের পর থেকে তাজপুর পর্যটন কেন্দ্রের হোটেলগুলি খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীঘা মন্দারমণির অবস্থা দেখে তাঁরাও এখন হোটেল খোলার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসছেন।
দিঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে গত বুধবার রাতে এক বৈঠকে ৩০ শতাংশ কর্মী নিয়ে ৩০ শতাংশ হোটেল খোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। করোনা সংক্রমণ এড়াতে ৩০ জুন পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব সহ যাবতীয় নিয়ম কানুন মেনেই ওই হোটেল গুলিকে চলতে বলা হয়েছিল। আগত পর্যটক ও হোটেল কর্মীরা নিয়ম মানছেন কিনা তার উপরেও নজরদারি শুরু হয়। নিষেধাজ্ঞা থাকে সমুদ্র স্নান ও জটলার উপর। দিঘার হোটেলের ঘরগুলি বৃহস্পতিবারই স্যানিটাইজড করা হয়। বৃহস্পতি ও শুক্রবার কলকাতা, হাওড়া সহ কয়েকটি জেলা থেকে সামান্য কয়েক জন পর্যটকও দিঘায় পৌঁছন। কলকাতা থেকে দিঘা পর্যন্ত সরকারি বাস চললেও তাতে যাত্রী সংখ্যা ছিল নিতান্তই নগণ্য। যে কয়েকজন পর্যটক আসেন তাঁরা প্রায় সকলেই নিজস্ব গাড়িতে করে দিঘায় পৌঁছন। শুক্রবার সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই টালিগঞ্জের বাসিন্দা শিক্ষিকা অরুনিমা সরকার বিশ্ববাংলা ঘাটে জলোচ্ছ্বাস দেখছিলেন। তিনি জানান দীর্ঘদিন লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যে বর্ষা প্রবেশ করেছে। দিঘায় বর্ষা উপভোগ করার জন্যই সহ-শিক্ষিকাদের সঙ্গে এসেছিলেন, কিন্তু হোটেল না পাওয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। সৈকত নগরীর গেটে তালা পড়ায় পর্যটকদের আনন্দে যেমন অনির্দিষ্টকালের জন্য ভাটা পড়ল তেমনি আশার আলো দেখা হোটেল কর্মীদের ভাগ্যাকাশ আবার কালো মেঘে ঢেকে গেল।

