আবদুর রউফ
আল আমান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট মানব সেবায় সর্বদা নিয়েজিত আজকের লেখা কবি ফজলুল হকের কবিতা দিয়ে শুরু করছি৷ মানুষের জীবনে যে যাই কাজ করুক না কেনো লক্ষ একটাই স্বর্গ লাভ করা৷ কেউ স্ব ইচ্ছায় নরকে যেতে চায় না৷ যেনতেন প্রকারে স্বর্গের চৌকাঠ হলেও কোন অসুবিধা নেই৷ কবি ফজলুল হক কবিতার মাধ্যমে স্বর্গ নরকের ঠিকানাটা স্পষ্ট করেছেন---
কোথায় স্বর্গ, কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরাসুর।
রিপুর তাড়নে যখনই মোদের বিবেক পায় গো লয়,
আত্মগ্লানির নরক অনলে তখনই পুড়িতে হয়।
প্রীতি ও প্রেমের পুণ্য বাঁধনে যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন আমাদেরই কুঁড়েঘরে৷
স্বর্গ সুখ আর নরকের যন্ত্রণা মানুষ পৃথিবীতেই উপলব্ধি করতে পারে। মানুষের মাঝেই নিহিত সকল ভালো মন্দ। আমরা নিজেদের সৎ কর্মের দ্বারাই পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনা করতে পারি। আবার আমাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই পৃথিবীকে নরক বানিয়ে ফেলে। মানবতাবাদী কবি শেখ ফজলুল করিম তার কবিতায় যে সত্য তুলে ধরেছে সত্যি আজ ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের প্রীতি আর বন্ধনের কোন বিকল্প নেই।
স্বর্গ লাভ কেবল ভাল কাজ দ্বারাই সম্ভব, আমরা মনে করি নিয়মিত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমেই স্বর্গ হাতের মুঠোয় পুরে ফেলেছি৷ সেজন্য আমরা অনেকেই স্রষ্টাকে খুশি করার জন্য নিয়মিত ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করি৷ কিন্তু মানুষের মৃত্যুর পর হিসাবের সময় তাকে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে, যার অন্যতম বান্দার হক্ব বা অধিকার আদায় করেছে কিনা!!! মানুষের হক্ব আদায় করাটা আপনার দায়িত্ব৷ আপনার সম্পদে মানুষের অধিকার বিদ্দমান৷
একটা ঘটনা উপস্থাপন করছি, যার সত্যতা যাঁচাই করিনি, তবে উৎসাহ দানের জন্য বিবৃত করছি৷
কোন এক বাদশাহ গভীর রাতে পালঙ্কে শুয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের কল্পনা করতে থাকে, এমন সময় প্রাসাদের ছাদে মানুষের পদধ্বনি৷ বাদশাহ ক্ষেপে লাল, কার এত সাহস গভীর রাতে বাদশাহের আরামের বিশ্রাম কন্টকাকীর্ণ করে তোলে৷ রাজকীয় হুঙ্কার কে ওখানে? ততটাই বিনয়ের সাথে উত্তর,
জাঁহাপনা! আমি আপনার প্রতিবেশি, আমার আস্তাবলের ঘোড়াটা পালিয়েছে, তাই ছাঁদের উপরে ঘোড়া খুঁজছি৷
বাদশাহ অট্টহাসি করে বলল: ঘোড়া কখনও ছাঁদের উপরে পাওয়া যায়? ঘোড়া খুঁজতে সবুজের মাঝে যাও৷
বিনীত কন্ঠস্বর ভারী গলায় বলল, জাঁহাপনা! ছাঁদের উপরে যদি ঘোড়া না পাওয়া যায়, তাহলে সোনার পালঙ্কে শুয়ে আল্লাহকে পাওয়ার আশা করেন কেনো??
তড়াৎ করে লাফিয়ে উঠল বাহশাহ, প্রাসাদের ছাদে যেয়ে কাউকে পেল না, ভাবান্তর শুরু হলো, ত্যাগ করলেন বাদশাহি, মিশে গেলেন প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে, খুঁজে পেলেন স্বর্গের ঠিকানা৷
আমরা জানি, রামায়নের বর্ননায়, পুরুষোত্তম রামচন্দ্র রাজত্ব ত্যাগ করে প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে একাত্ম হয়ে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন৷
আমার বক্তব্য হলো,
২০২০ সাল, করোনার গযব শেষ না হতেই সোনার বাংলার কয়েকটি জেলা আম্ফান ঘূর্নিঝড়ে বিপর্যস্ত৷ যার মধ্যে আমার জেলা উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকা একেবারেই ক্ষতিগ্রস্থ৷ স্বচক্ষে দেখে আসার পর মনে হয়েছে মানুষ এত দূর্বিসহ জীবন যাপন কেমন করে করে৷ বেঁচে থাকার জন্য মৌলিক চাহিদা অন্ন বস্ত্র বাসস্থান৷ বর্তমানে তিনটের কোনটাই ওদের কাছে প্রয়োজন পূরন করতে পারছে না৷ বাইরে থেকে যতটুকু সাহায্য পৌঁছাচ্ছে তা দিয়েই প্রকৃতির সাথে মানিয়ে চলার চেষ্টা করছে মাত্র৷ বাচ্চা থেকে বৃদ্ধ, নারি থেকে পুরুষ, ধনী থেকে দরিদ্র, হিন্দু থেকে মুসলিম, ডানপন্থী থেকে বামপন্থী, সভ্য থেকে অসভ্য সকলে মিলেমিশে একাকার হয়ে মানুষ পদবাচ্যে বিবেচিত হয়েছে৷ তারা এক মুঠো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।
আমরা যারা তাদের থেকে একটু ভালো অবস্থায় আছি, আমরা দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় খাবারের রকমফের করে মেন্যু তৈরীতে ব্যস্ত, দিনে রাতে আরাম কেদারা আমাদের জন্য প্রস্তুত, সুন্দর পোষাকের চিত্র দৃষ্টি নন্দন করে চলেছে৷ এবিষয়ে কোন অভিযোগ নেই৷ কিন্তু স্যার দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পাশাপাশি আমরা যদি ওই সমস্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে আসমান থেকে ফেরেশতা নেমে আসবে না৷ আপনাকে আমাকে ফেরেশতা রূপে তাদের কাছে হাযির হতে হবে৷ স্বশরীরে না হলেও আপনার বুদ্ধি, মেধা, অর্থ, সহমর্মিতা, সহযোগিতা, সহানুভূতি সেখানে পৌঁছানো একান্তই দরকার, স্বশরীরে যেয়ে সাহায্য করতে পারলে খুবই উত্তম, না পারলে সাহায্য পৌঁছে দেওয়া দরকার৷ ওই সমস্ত মানুষদের মাঝেই স্বর্গ লুকিয়ে আছে৷
আমরা যারা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়ায়, আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয় তাদের চাহিদা পূরন করা৷ সেজন্য বারে বারে আপনাদের কোমল হৃদয়ের পানে হস্ত বাড়িয়ে দিই৷ ইতিপূর্বে আপনাদের সহযোগিতায় আমরা তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি৷ তাদের মানবেতর জীবন যাপন আমাদেরকে আরো একবার তাঁদের পাশে দাঁড়াতে তাগাদা দিচ্ছে৷ সেজন্য আল আমান ওয়েল ফেয়ার ট্রাস্ট আগামী ২৯/০৬/২০২০সোমবার ত্রান সামগ্রী নিয়ে সুন্দরবন এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে স্বশরীরে আপনি যেতে চাইলে এগিয়ে আসুন৷ না পারলে কিছু পরিমান হলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, আবদুর রউফ
সম্পাদক, আল আমান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট৷

