সেখ ওলি মহম্মদ, মহম্মদবাজার, বীরভূম
কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বাড়ছিল ভারত-চীন সীমান্তে। গতকাল ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণরেখায় শুরু হয় তীব্র লড়াই । আর এই লড়াইয়ে শহীদ এক কর্ণেল সহ ২০জন ভারতীয় জওয়ান। পাল্টা প্রত্যাঘাতে হত ৪৩ জন চীনা সেনা। নিহত ভারতীয় জওয়ানদের মধ্যে রাজেশ ওরাং এর বাড়ি বীরভূমের মহঃম্মদ বাজার থানার ভুতুরা পঞ্চায়েতের শেওড়াকুড়ির বেলঘড়িয়া গ্রামে।বছর পাঁচেক আগে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন রাজেশ।চাকরী পেয়ে কিছুটা সচ্ছল হচ্ছিল পরিবার।পাকা বাড়ি তৈরি হলেও অসম্পূর্ণ।
ইচ্ছে ছিল ছুটিতে এসে বোন শকুন্তলার বিয়ে দেবেন। কিন্তু গতকালের ঘটনায় নিভলো রাজেশের জীবন দীপ।এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের জেরে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।মঙ্গলবার ওই জওয়ানের শহীদ হবার খবর গ্রামে আসে। বুধবার খবর পেয়ে সকাল থেকে বিভিন্ন দলের নেতা, প্রশাসনের আধিকারিকরা গ্রামে ভিড় করেন।জলকাদায় ভতি রাস্তায় তড়িঘড়ি ডাষ্ট বিছানো হয়। গ্রামের ছেলের শহীদ হবার ঘটনায় গর্বিত গোটা গ্রাম। দেশ রক্ষার লড়াইয়ে রাজেশের আত্ম বলিদান গর্বিত রাজেশের পরিবার ও। রাজেশের ভাই বলেন-দেশরক্ষায় রাজেশের এই আত্মবলিদানে আমরা গর্বিত, আমরা চাই ভারত সরকার ও চীনকে যোগ্য জবাব দিক।বুধবার সকাল থেকে সকলের প্রতিক্ষা কখন গ্রামে আসবে তাদের প্রিয় রাজেশের নিথর দেহ।কেউ কেউ চাইছেন গ্রামের রাস্তার নাম রাখা হোক রাজেশের নামে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারচাকা গাড়ির সামনে ফটো লাগিয়ে ফুলের মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে।ঐ গাড়িতেই রাজেশের দেহ নিয়ে যাওয়া হবে গ্রামে। গ্রামের লোকজন সহ এলাকার মানুষ প্রতীক্ষা করে থাকলেও আজ রাজেশের দেহ এসে পৌঁছায় নি। আগামীকাল সকালে তার মরদেহ এসে পৌঁছাবে।তারপর সম্মান প্রদর্শন করার পর খ্রীষ্টান রীতি অনুযায়ী সমাধিস্থ করা হবে গ্রামে।এদিকে রাজেশের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যপাল জগদীশ ধনকড়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শহীদের পরিবারকে ৫লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পরিবারের একজনকে চাকরী দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন। আগামীকাল অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে পারেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

