এই বিশেষ দিনটিতে বাগনান, কুলগাছিয়া, পাতিনান, নজরপুর, নাওদা, শ্যামপুর, জগাছা, বাকসাড়া, বেলুড়, আন্দুল, বোটানিক্যাল গার্ডেন সহ হাওড়ার বিভিন্ন জায়গায় রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিবস অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হলো। লকডাউন এর কারণে অনুষ্ঠানগুলি অত্যন্ত ঘরোয়া ভাবে পালন করা হলেও, অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বিচারে এগুলি বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে।
রবীন্দ্রনাথের কবিতাপাঠ, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, স্বল্প পরিসর আলোচনা... প্রভৃতির অনুষঙ্গে এই ছোট ছোট উদযাপন গুলি বিশেষ স্বাক্ষর রেখে যায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের বহুমুখী শিক্ষা আজকের সমাজ জীবনে কেমন করে নানান সমস্যায় পথ দেখাতে পারে, সেই বিষয়ে চর্চার উপর প্রাধান্য দেয়া হয়েছে এই আলোচনা গুলিতে।
। রবীন্দ্রনাথের জন্ম দিবস-এর সঙ্গে সঙ্গে, এই দিনটি আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অন্য একটি বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দিন। আজ থেকে 75 বছর আগে 1945 সালে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রায় শেষ পর্যায়ে আজকের দিনটিতে জার্মানের ফ্যাসিবাদী শক্তি মহান স্ট্যালিনের নেতৃত্বে সোভিয়েত জনগণ এবং 'লালফৌজের' সংগ্রামের কাছে পরাজয় স্বীকার করতে বাধ্য হয়। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিজয়ের এই 75 তম বার্ষিকীতে তম বার্ষিকীতে আজকের রবীন্দ্র জন্ম দিবস উদযাপন অন্য তাৎপর্য নিয়ে আমাদের সামনে হাজির হয়েছে। কারণ, আমরা সকলেই জানি, রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের শেষ প্রায় 25 বছর ধরে সাম্রাজ্যবাদ, ফ্যাসিবাদ এবং যুদ্ধ-উন্মাদনার বিরুদ্ধে পৃথিবীব্যাপী নানা কর্মকাণ্ড ও সংগ্রামের স্বাক্ষর রেখে গেছেন। তিনি তাঁর জীবনের এক্কেবারে অন্তিম সময়ে, এমনকি যখন তিনি মৃত্যু শয্যায়, তখনও জার্মান ফ্যাসিবাদের পরাজয় এবং সোভিয়েত লালফৌজের জয়ের আকাঙ্ক্ষা কী তীব্রভাবে অন্তরে লালন করে গেছেন, নির্মলকুমারী মহলানবিশের 'বাইশে শ্রাবণ' এ আমরা তার উল্লেখ পাই।
তাই সবদিক বিচার করে, আজ এই লকডাউনের মধ্যেও বর্তমান সমাজ জীবনে রবীন্দ্র জন্ম দিবস পালনের এই ছোট ছোট অনুষ্ঠান গুলির গুরুত্ব অপরিসীম।

