অর্ধাহারে-অনাহারে কাটতে চলেছে বলে দাবি। প্রতিবন্ধী পরিবারের,




বাবাই সূত্রধর, গঙ্গারামপুর,,


 ১০ এপ্রিল দক্ষিণ দিনাজপুর: 


পরিবারের একমাত্র রোজগারের মানুষটি ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধী। বাকি আরও তিনজনের মধ্যে কেউ বা কোন মতো হাঁটতে পারেন, কেউ আবার চোখে দেখতে পান না।কেউ আবার পিরি নিয়ে বসে বসে দুই চার পা  চলাফেরা করে থাকেন খুবই কষ্ট করে।

দক্ষিণ দিনাজপুর গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বুরুজ পাড়ায় চারজনের প্রতিবন্ধী পরিবারের লোকজনের মধ্যে সরকারি সাহায্যের  দেওয়া সামগ্রী  শেষ  হতে চলেছে তাদের, দিন অর্ধাহারে-অনাহারে কাটতে চলেছে বলে দাবি। 




চারজনের মধ্যে সরকারের তরফে দুজনের ভাতা পেলেও বাকি দুই ছেলে-মেয়ের এখন কোন সহযোগিতা পায়নি বলে দাবি তাদের।প্রতিবন্ধী পরিবার ও এলাকাবাসী দের তরফে জানানো হয়েছে যে, তাদের পাশে যেন এমন সময়ে সকলে এগিয়ে আসে। 


বিষয়টি শোনার পরেই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা করে দেবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বিধায়ক ও পৌরসভার চেয়ারম্যানের তরফে। 


                 গঙ্গারামপুর পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বুরুজ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মুন্না প্রসাদ  গুপ্তা শারীরিকভাবে তিনি 90 শতাংশ প্রতিবন্ধী। দু পা ভাঁজ করে কোন মতো হাঁটতে পারে সে। পরিবারের স্ত্রী বিমলা  রাজবংশী গুপ্তা দুপাইয়ের কনুই দিয়ে কোন মতো বাড়িতেই হেঁটে চলে বেড়ান রুগ্ন শরীর নিয়ে।

 মেয়ে  সোনিয়া গুপ্তা পিড়িতে করে বসে বসে কোন মত চলতে পারেন।সে  এই বছরই স্থানীয় ইন্দ্রনারায়নপুর   হাই স্কুল থেকে শারীরিক 90 শতাংশ এর বেশি প্রতিবন্ধী হলেও মনের জোরে এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে সে।একমাত্র ছেলে মহাদেব প্রসাদ গুপ্তা  দু চোখে অন্ধ হলেও কলকাতা রামকৃষ্ণ একাডেমিতে  পড়াশোনা করছে।

 ছোটবেলা থেকে তাদের পরিবারের ছেলে মেয়ে  প্রতিবন্ধী।জীবন সংগ্রামে বেঁচে থাকার জন্য দু পা ভাঁজ করে বহু কষ্ট করে টিকিট বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করে চলেছেন তিনি।

 ঘর বলতে মুলি বাঁশের বেড়া দেওয়া একখানে টিনের ছাউনি দেওয়া একটি মাত্র রুম। বাইরের বারান্দার পাশে কোনমতে রান্না করার জন্য একটি মাটির উনুন। প্রতিবন্ধী মুন্না বাবু ও তাঁর স্ত্রী বিমলা রাজবংশী গুপ্তার সরকারি ভাতা পান। 

দুই ছেলেমেয়ের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু তা এখনো হয়নি বলে খবর।  90% উপরে প্রতিবন্ধী মুন্না প্রসাদ গুপ্তা, তার স্ত্রী বিমলা রাজবংশী গুপ্তা, মেয়ে সোনিয়া গুপ্তা, ছেলে মহাদেবপুর তারা জানালেন তাদের করুণ কাহিনীর কথা। তারা জানান কোনমতে সংসার চলে তাদের, হাঁটতে চলতে পারিনা। এখন লটারির ব্যবসা নেই লকডাউন এর জন্য। ভাতার টাকা ও রেশনের জিনিসপত্র শেষের দিকে।

বাকি দুজনের সরকারি ভাতার টাকার জন্য আবেদন করেও এখনো পেলাম না। একটি ঘর দিয়েছে পৌরসভা থেকে।স্থানীয় ক্লাব সহযোগিতা করে চাল, ডাল দিয়েছিল। সকলে এসে পাশে দাঁড়ালে খুব ভালো হয়। 

   
এলাকার দুই প্রতিবেশী মোনালিসা রাজবংশী ও বিদ্যুৎ মন্ডল এরা জানিয়েছেন, এদের পরিবারটা খুবই দুস্থ। তাই এমন সময়ে সকলে তাদের পাশে দাঁড়াক সেটাই আমরা চাই।               বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে শোনার পরেই তাদের পাশে  দাঁড়িয়ে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা করে দেবার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে গঙ্গারামপুরের বিধায়ক গৌতম দাস  ও পুরসভার চেয়ারম্যান অমল সরকারের তরফে। তারা জানিয়েছেন দ্রত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।           

      লকডাউন এর মধ্যে বহু প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরা বিধায়ক, বা পুরসভা, বিভিন্ন দলের তরফে বহু মানুষজনদের সাহায্য করে চলেছে বিভিন্ন জায়গায়। তবে এমন পরিবারটি কি সকলের কাছে সহযোগিতা চেয়ে পাবে কিনা সেটাই লক্ষ টাকার প্রশ্ন।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...