অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার থেকে পরিষেবা পাওয়া মা ও শিশুদের বরাদ্দকৃত চাল,আলু কম দিয়ে নিজে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ,





বাবাই সূত্রধর, দক্ষিণ দিনাজপুর

অঙ্গনওয়াড়ি  সেন্টার থেকে পরিষেবা পাওয়া মা ও শিশুদের বরাদ্দকৃত চাল,আলু কম দিয়ে নিজে তা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে সেন্টারের এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে।

ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের সুকদেব পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকপুর এলাকার ১২নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টারে।

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর এমন ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার হাতে চরম হেনস্থা স্বীকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকার গ্রামবাসীদের পাশাপাশি এক সুপারভাইজারও।




ঘটনার অভিযুক্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবার জন্য জেলা শাসক,গঙ্গারামপুর এর মহকুমা শাসক,ব্লকের বিডিও, সিডিপিও কে লিখিত ভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে সুপারভাইজারের তরফে । 

যদিও ওই সেন্টারের কর্মী সাংবাদিক বলছি শুনেই সুপারভাইজার ফোন করেছে বলে ফোন কেটে দিয়ে নিজের দায় সারার চেষ্টা করেন।

লক ডাউনের মধ্যে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শোরগোল পড়েছে গঙ্গারামপুর জুড়ে।
          গঙ্গারামপুর ব্লকের সুকদেব পুর  গ্রাম পঞ্চায়েতে মল্লিকপুর এলাকার ১২ নাম্বার অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার মূলত সীমান্ত এলাকার। 

সেই সেন্টার থেকে মল্লিকপুর সহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের মা ও শিশুরা পরিষেবা নিয়ে থাকেন। সেন্টারের কর্মী হিসেবে কাজ করছেন সুকদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পারগা এলাকার বাসিন্দা নীলিমা মন্ডল।করোনা আতঙ্কের মধ্যে সরকার ঘোষণা করেছে লকডাউন। 

যা বেশ কিছু দিন ধরেই চলছে বলে খবর। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি জেলা সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার গুলি বন্ধ রয়েছে। সরকারের তরফে ঘোষনা করে দেওয়া হয়েছে যে, সেন্টার থেকে মা ও শিশুদের বরাদ্দকৃত পুষ্টিকর খাদ্যের পরিবর্তে প্রতি একজন মা ও শিশুর জন্য ২ কেজি চাল, ২ কেজি আলু ও ৩০০ গ্রাম করে ডাল তাদের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছে দেবে অঙ্গনওয়াড়ি করবে না।

 কোনমতেই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সেন্টারে বসে বসে সেই জিনিসপত্র বিলি করতে পারবে না। রবিবার সকালে গঙ্গারামপুর ব্লকের সুকদেব পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মল্লিকপুর এলাকায় ১২ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার কর্মী পারগার বাসিন্দা নীলিমা মন্ডল সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে সেন্টারে বসে মা ও শিশুদের চাল বিলি করছিল।
এলাকার গ্রামবাসী অতীন রায় সহ আরো তিন গ্রামবাসী অভিযোগ করে বলেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী নীলিমা মন্ডল নিয়ম না মেনে সেন্টারে চাল ,আলু বিলি করছিল। 

কয়েকজনের নাম থাকলেও তাদের সেই চাল আলু ডাল না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছিল সেন্টারে এসে তা বিলি করে ,প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবী জানাই।
সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবী দের সামনে রেখে ওই সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা তা বিলি করবেন যেন যাদের জন্য বরাদ্দকৃত জিনিস সেটা যেন ওই কর্মীরা বাসিন্দাদের কম দেওয়া এমনকি আত্মসাৎ করতে না পারেন। 




সেন্টারের কর্মীর এমন খবর পেতেই এলাকায় ছুটে যান সুপারভাইজার উদয় রায়। তিনি ঘটনার প্রতিবাদ করতেই ওই কর্মী তাকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ উদয় রায়ের।


সুপারভাইজার উদয় রায় জানান, সরকারি জিনিস ওই কর্মী আত্মসাৎ করতে পারেন না। সে ঘটনা জানতে পেরে সেখানে আসা হয়েছিল। কর্মী চরম দুর্ব্যবহার করেছেন। প্রতিবাদ জানিয়ে দোষী কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে বিভিন্ন জায়গায়।
 গঙ্গারামপুর ব্লকের সিডিপিও রতন বর্মন জানিয়েছেন, কেন কয়েকজনকে জিনিসপত্র দেওয়া হলো না সে বিষয়টি শুনেছি। তাদের কেউ দেওয়া হবে।
গঙ্গারামপুর এর মহকুমা শাসক মানবেন্দ্র দেবনাথ জানিয়েছেন, বিষয়টি সিডিপিও কে দেখতে বলেছি, ওই অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী যদি জিনিসপত্র আত্মসাৎ অভিযোগ প্রমাণিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে।



যদিও ওই সেন্টারের কর্মী নীলিমা মন্ডল কে ফোন করে সাংবাদিক বলছি বলে শুনেই সুপারভাইজার ফোন করেছেন বলে ফোন কেটে দিয়ে নিজের দায় সারার চেষ্টা করেন।
 অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীর বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শোরগোল পড়েছে গঙ্গারামপুর জুড়ে।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...