মালদা;২৪ এপ্রিল:
লক ডাউনে খাবার অমিল ! কচু শাক ,কাঁচা আম খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর -২ ব্লকের খন্তা গ্রামের তিওর পাড়ার ২০০ টি পরিবারের লোকজন ! গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের লোকজন দিনমজুরি করে সংসার চালান !
লক ডাউনের জেরে এলাকায় কাজকর্ম বন্ধ ! বন্ধ রোজগারও !
এই চরম সংকটের মুহূর্তে প্রশাসন বা পঞ্চায়েতের তরফে কোনো সাহায্য মিলছে না ! ব্লক ও পঞ্চায়েত দপ্তরে বার বার ঘুরেও কোনো লাভ হয় নি !
পনেরো দিন আগে রেশনে পাওয়া ২ কেজি চাল ও গম কবেই শেষ হয়ে গিয়েছে ! লক ডাউনের আবহে সন্তান সন্ততিদের নিয়ে কোনো রকমে যাতে দিন কাটে সে জন্যই ত্রাণের পথ চেয়েই অপেক্ষায় থাকেন হরিশ্চন্দ্রপুর -২ ব্লকের খন্তা গ্রামের দিন আনি দিন খাই পরিবারের লোকজন !
ওই গ্রাম থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে রয়েছে ব্লক দপ্তর ! অথচ লক ডাউনের মধ্যেই ব্লক সংলগ্ন গ্রামের বাসিন্দাদের মিলছে না কোনো প্রশাসনিক সাহায্য ।
তাই এই লক ডাউনে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন ওই গ্রামের বাসিন্দাদের !
স্থানীয় বাসিন্দা নির্মলা পরিহার ,গীতা দাসেরা অভিযোগ করে বলেন ,"এই লক ডাউনে আমাদের রোজগার বন্ধ ! সরকারি সাহায্য বা ত্রাণ কিছুই মিলছে না !
রেশনের দুই কেজি করে চাল পেয়েছি পনেরো দিন আগে ! দুই কেজি চাল কতদিন চলবে ? সাহায্যের জন্য পঞ্চায়েত ,ব্লক দপ্তরে ঘুরে ঘুরেও কোনো সাহায্য পাইনি ! ছেলেমেয়েরা খাবার চাইলে দিতে পারছি না ! কি করবো মাঝে মধ্যেই কচু শাক ,কাঁচা আম খেয়ে দিন গুজরান করছি ! আমাদের কথা শোনার কেউ নেই ! এখনতো দেখছি করোনা ভাইরাসে না মরলেও,সরকারি সাহায্য না মিললেও না খেয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা মারা যাবে !
একই অভিযোগ করেন ওই গ্রামের নরেশ পরিহার নামে এক মজুর ! তিনি বলেন ," এই গ্রামের অধিকাংশ মানুষ দিনমজুরি করে সংসার চালায় ! দিনে খাটে রাতে খায় ! এখন লক ডাউনে কাজকর্ম বন্ধ ! ছেলেমেয়েদের নিয়ে অর্ধাহারে ,অনাহারে গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি ! সরকারি ,বেসরকারি কোনো সাহায্যই পায় নি !
সুলতানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ওয়াহেদা খাতুন এর স্বামী কাউসল আলম জানান ," আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণ না পাওয়ায় ওই গ্রামে সকল পরিবারের হাতে ত্রাণ দিতে পারেনি ! তবে চেষ্টা করছি খুব শীঘ্রই তারা যাতে ত্রাণ পায় তার ব্যবস্থা করছি !
অন্যদিকে হরিশ্চন্দ্রপুর -২ ব্লকের বিডিও প্রীতম সাহা জানান ,"খন্তা গ্রামে কিছু পরিবারকে সাহায্য দেওয়া হয়েছে ! বাকিদের দেওয়া হবে বলে জানান !


