করোনা আতঙ্কে সারা ভারতবর্ষে লকডাউন চলছে। বহু মানুষ বিপর্যযস্ত হয়ে পড়েছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি মহুকুমার কালীবাড়ি রোডের বাসিন্দা অনিমা দাস এমনই একজন অসহায় মহিলা।
তার চোখ থেকে অনবরত জল গড়িয়ে পড়ছে। ১৯৭২ সালে তার স্বামী স্বপন কুমার দাস ভারত সরকারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিলংয়ে অবস্থিত নবম ব্যাটেলিয়নে সৈনিক পদে যোগ দিয়েছিলেন।
বছর দশেক চাকরি করবার পর ১৯৮২ সাল নাগাদ তার স্বামী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। সেই সময় অনিমাদেবীর গর্ভে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়ার আগেই মারা যায়।
তার পর থেকেই স্বামী মানসিক রোগীতে পরিণত হন। মাঝে মধ্যেই চাকরি থেকে বাড়ীতে চলে আসতেন। বাড়ী এসে চুপচাপ বসে থাকতেন। নিজের জিনিসপত্র গোপনে লুকিয়ে রেখে দিতেন।
সময়ে সেগুলো নিজেই খুঁজে পেতেন না। চাকরি স্থলে যেতে চাইতেন না। জোর করে পাঠাতে হোতো। ১৯৮৮ সালে চাকুরি স্থলে নিজের জিনিসপত্র সহ বন্দুকটিও গোপনে লুকিয়ে রেখে নিজেই ভুলে যান।
শেষ পর্যন্ত বি এস এফ কর্তৃপক্ষ বন্দুকটি খুঁজে বের করে এবং ১৯৮৯ সালে তাকে কোর্ট মার্শাল করে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত তার চাকরির সময়সীমা ছিল। তারা তার চাকরির সমস্ত পাওনা অর্থ, পেনশন ইত্যাদি সুবিধা পাওয়া থেকে বঞ্চিত করে।
কর্তৃপক্ষ তার মানসিক রোগগ্ৰস্ত হবার বিষয়টি বিবেচনা না করে এবং তার পরিবারের কথা না ভেবে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনোপ্রকার সুযোগ না দিয়ে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত কার্যকর করে তাকে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। অনিমাদেবীর জীবনে নেমে আসে চরম বিপর্যয়।
তিন মেয়ে কে নিয়ে তিনি অথৈ জলে ভাসতে থাকেন। কারো কাছে কোনরকম সাহায্য তিনি পাননি। বাবার বাড়ী থেকে যৎসামান্য সাহায্যে কোনো ভাবে বেঁচে রয়েছেন। মুড়ী ভেজে এবং এটা ওটা করে পাগল স্বামী কে নিয়ে সংসার চালান।
এই লকডাউন বিপর্যয়ে তার অবস্থা খুবই দুঃখজনক।
অনিমাদেবী কান্দি পৌরসভার চেয়ারম্যান অপূর্ব সরকার, বহরমপুর লোকসভার সাংসদ অধীর চৌধুরী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে তার স্বামীর বিপর্যয়ের সুবিচার পাওয়ার সহযোগিতা আশা করছেন। তাহলে হয়তো তাদের ন্যায্য পাওনা অর্থগুলি ফিরে পাবেন। লকডাউন খোলার অপেক্ষায় তিনি দিন গুনছেন।


