খাবার কম-‌বেশি নিয়ে দুই বোনের মধ্যে বিবাদের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ২ বোন।





মালদা ১০ এপ্রিল ঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃঃ

 লকডাউনের ফলে কাজ নেই। বাড়িতে খাবার নেই। এই অবস্থায় খাবার কম-‌বেশি নিয়ে দুই বোনের মধ্যে বিবাদের জেরে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান ২ বোন।




 গলায় ওর্ণা জড়িয়ে তাঁরা ঝুলে পড়েন। বোনকে বাঁচানো সম্ভব হলেও দিদিকে বাঁচানো যায় নি। দিদির দেহ ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে।

 যদিও দিদির মৃত্যুর জন্য লকডাউনকেই দায়ী করেছেন এলাকার মানুষেরা। অভাবের তাড়নার মৃত্যুর ঘটনা বলে জানিয়েছেন তাঁরা। যদিও গ্রামবাসীদের এই অভিযোগ মিথ্যে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েত।  
   করোনা রুখতে চলছে লকডাউন।


 এই লকডাউনের আবহে সাধারন মানুষের  কাজকর্ম বন্ধ। দিনমজুর ও গরিব মানুষও পড়েছেন কষ্টে। যদিও প্রশাসন বিভিন্নভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। 

বুধবার সন্ধ্যায় অভাবের তাড়নায় ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন দুই বোন। যদিও দিদির মৃত্যু হলেও অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন বোনটি। 





মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজার ব্লকের কাজিগ্রাম গ্রামপঞ্চায়েতের লক্ষ্মীপুর দেলডাগ পাড়ায়। এই ঘটনার পর এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। 

ঘটনার কথা জেনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সংস্লিষ্ট পঞ্চায়েত সদস্য ও পুলিশ পুলিশ। কিশোরীর  মৃতদেহ উদ্ধার করে মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। তবে কী কারনে কিশোরী আত্মহত্যা করল পুলিশ খতিয়ে দেখছেন।

 স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত কিশোরীর নাম হাসেনুর খাতুন (‌‌১৬‌)‌‌। বোন হাসবেরা খাতুন(১৩)। হতদরিদ্র পরিবার তাঁদের। দিন আনে দিন খায়।

 দুই মেয়ের বাবা সেতাব শেখ প্রায় দুই বছর আগে মারা যান। মা জুবেরা বেওয়া কোনোক্রমে মেয়েদের আগলে রেখে সংসার সামাল দেন। বাড়ির মেয়েরাও উপার্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় তাঁরা জ্বালানি ও ঘাস সংগ্রহ করে ও তা  বিক্রি করে চলে সংসার। 

এমনকি অন্যের বাড়িতে কাজ করেও থাকে তাঁরা। এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, অভাবের তাড়নায় আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে ২ বোন। বুধবার সন্ধ্যায় খেতে বসেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাওয়ার কমবেশি নিয়ে নাকি ঝগড়া বাধের ২ বোনের মধ্যে। 

তার জেরে দুজনে বাড়ি থেকে অদূরে একটি আমবাগানে গাছে ওড়না দিয়ে ঝুলে আত্মহত্যা করেন।  যদিও দিদির মৃত্যু হলেও ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় বোন। লকডাউনে আর্থিক অভাব ও খেতে না পাওয়াকে দায়ী করেন গ্রামবাসীদের কেউ কেউ। পঞ্চায়েত প্রধান সত্যজিৎ চৌধুরী বলেন, ‘‌ঘটনার খবর শুনেছি। 




খতিয়ে দেখা হচ্ছে কীকারনে আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল। অভাবের জন্য মৃত্যু এটা ঠিক নয়। এই মুহূর্তে আমরা প্রতিটি এলাকায়  নজর রাখছি ।লকডাউনের মধ্যে কোন মানুষের সমস্যা হলে পঞ্চায়েত সদস্যরা যাতে করে বাড়তি  নজর দিচ্ছেন।’‌  সংস্লিষ্ট গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য জাকির হোসেন বলেন, এই মুহুর্তে নজর রেখেছি গ্রামে। বেশকিছু পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এক সপ্তাহ আগে এই পরিবারকে ২৫ কেজি চাল, ১০ কেজি আলু, ডিম, ডাল এবং নগদ ১০০ টাকা দিয়েছি। 

তাঁর দাবি এছাড়াও একটি  আবাস যোজনায় গৃহ দেওয়া হয়েছে। তবে অভাব নয়, সামান্য ঝগড়া থেকে মান অভিমান ধরনের আত্মহত্যা  ঘটনা বলে অনুমান।

AB Banga News-এ খবর বা বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য যোগাযোগ করুনঃ 9831738670 / 7003693038, অথবা E-mail করুনঃ banganews41@gmail.com
⏳ নিউজ লোড হচ্ছে...